জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটি ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি একঘরে করতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের সময় কিউবার প্রতিনিধি দল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ইরানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে তারা পুনর্গঠন হতে পারবে এবং আগের চেয়ে অনেক ভালো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারবে, নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংসকরে দেব?’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমি কি তাদের এমন এক নরকের দিকে ঠেলে দেব যেখান থেকে বেঁচে ফেরার কোনো সুযোগই থাকবে না?’ তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এছাড়া চুক্তি না করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরান আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা যা বুঝতে পারছে না, তা হলো আমি নির্বাচনে লড়ছি না।’ তিনি এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া বিশ্বের সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ এবং সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে শিগগিরই এমন একটি বিশ্ব দেখতে পাব, যেখানে ইরানি সন্ত্রাসবাদের ৫১ বছরের হুমকি আর থাকবে না।’ এ সময় ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
কিউবার পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার প্রশাসন কিউবার পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। তার দাবি, দেশটি একটি ‘কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা’ দ্বারা পরিচালিত এবং বর্তমানে এটি বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি পুরোপুরি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ব্যর্থতার মুখে পড়েছে এবং এর পতন ঘটবেই। আমেরিকায় কখনোই কমিউনিজম আসবে না, তবে কিউবায় স্বাধীনতা আসবে।’ ট্রাম্প যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন কিউবার প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।