শিরোনাম
◈ মোবাইল টাওয়ারে চুরি বেড়েছে, ২০ মাসে ১৬ হাজার মিটার কেব্‌ল ও ২ হাজার ব্যাটারি লুট ◈ বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ আশঙ্কায় ওড়িশা-অন্ধ্রে সতর্কতা ◈ পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে প্রথমবার দণ্ড ফি নেই, দ্বিতীয়বার থেকে ১০ হাজার টাকা ◈ দুই বছরেও চালু হয়নি মহেশখালীর ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার তেল পাইপলাইন ◈ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে হজ ২০২৭ নিবন্ধন, এখনো নিবন্ধন করেননি ৩৪ হাজারের বেশি ◈ জিয়াউল আহসানের বিষয়ে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় তারেক সাঈদের ওপর কারাগারে হামলা: পরিবারের দাবি ◈ লঞ্চভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করার দাবি ◈ ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ◈ ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, সেপ্টেম্বরের ২২ দিনেই ঝরল ৯৮ প্রাণ

প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৬ রাত
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, ভোটে এগিয়ে যারা

কে হবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব! এ নিয়ে কৌতুহল সারাবিশ্বে। তবে এর মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ পদে প্রার্থীর সংখ্যা সাত। এর মধ্য থেকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বেছে নিতে বিশ্বশক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ পর্যন্ত তিন দফা গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। সম্ভবত মাত্র তিনজন প্রার্থী এখনো প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন মহাসচিব এমন একটি সংস্থার দায়িত্ব নেবেন, যেখানে ব্যয় কমানোর বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে এবং বিশ্বের বড় বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে এখন অনেকটাই প্রান্তিক অবস্থানে দেখা হচ্ছে। তবে জরিপগুলোতে এখনো জাতিসংঘের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী জনসমর্থনের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য মানুষ শুধু জাতিসংঘকে নয়, বিশ্বের নেতাদেরও সমানভাবে দায়ী করছে।

advertisement

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের জন্য জিওপোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে ৮৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না অথবা খুব সামান্য জানেন। সফল প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়জন বর্তমান সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স, বৃটেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি দেশও যেন ভেটো না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজনের ব্যাপকতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ৩১শে ডিসেম্বর।

শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যেসব নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের মধ্যে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী ও জাতিসংঘে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত লানা নুসেইবেহ এবং জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যপন্থী রাজনীতিক সিগরিড কাগ। গাজায় জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি অল্প সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর উপদেষ্টা কমিটিতে যোগ দেন।

advertisement

আলোচনায় থাকা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কাজাখস্তানের বহুভাষী প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দেখানোর ক্ষেত্রে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ট্রাম্প এখনো অরবানকে যথেষ্ট পছন্দ করেন। তবে ইউরোপের অনেক নেতা তাকে বিভেদ সৃষ্টিকারী জনতুষ্টিবাদী হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ভুক জেরেমিচের নামও আলোচনায় এসেছে। ২০১৬ সালের মহাসচিব নির্বাচনে তিনি গুতেরেসের পর দ্বিতীয় হয়েছিলেন। তবে আলোচনায় আসা এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর কেউই প্রকাশ্যে জানাননি যে তারা প্রার্থী হতে চান।

এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ২১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি পূর্ণ সদস্য। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি, এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাত্র একজন এবং আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে মাত্র দু’জন করে নাগরিক এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দেরিতে কোনো প্রার্থীকে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করা হলে তার দেশ বা অঞ্চল যা-ই হোক, অনেকে এতে অসন্তুষ্ট হতে পারেন। কারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক করার জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক এই নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

advertisement

কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ সদস্যের কাউকেই অসন্তুষ্ট না করার প্রয়োজনীয়তা প্রার্থীদের এমন কিছু বক্তব্য দিতে বাধ্য করছে, যা কিছুটা নিরস এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। অথচ জাতিসংঘের এই মুহূর্তে প্রয়োজন দৃঢ় নেতৃত্বের। সব প্রার্থীই বলেছেন, তারা জাতিসংঘকে আবার শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে চান। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু অনভিজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিকও প্রায়ই জাতিসংঘের কাছে এই ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে থাকেন। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের তৃতীয় ও শেষ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে আবারও এগিয়ে গেছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের নয় সদস্য তাকে ‘উৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন। পাঁচজন তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করার ভোট দিয়েছেন এবং একজন কোনো মতামত দেননি। গ্রিনস্প্যানের আশঙ্কা, ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও চীন থাকতে পারে। এই বিরোধিতা তাকে অতিক্রম করতে হবে। ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি গায়ানার রাজনীতিক ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটের পেছনে পড়ে যান। ওই ভোটে রড্রিগেজ-বিরকেট প্রথম হন। তিনি আটটি ‘উৎসাহিত’ ভোট, তিনটি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট এবং চারটি ‘কোনো মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। গত শুক্রবার রড্রিগেজ-বিরকেটের ‘উৎসাহিত’ ভোটের সংখ্যা আটটিই ছিল।

তবে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোট তিনটি থেকে বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় প্রার্থী ইকুয়েডরের সাবেক অর্থমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসাও এখনো কোনোভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। তবে গত সপ্তাহে তাকে ‘নিরুৎসাহিত’ করা ভোটের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল তিনটি। এসপিনোসা জাতিসংঘের ভেতরে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন মহাসচিব চান, যিনি মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে আরও বেশি প্রস্তুত থাকবেন।

প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না কোনো প্রার্থী অতিক্রম করা অসম্ভব কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না। কারণ তখন রঙভিত্তিক ব্যালটের মাধ্যমে বোঝা যাবে কোনো ভোট নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে এসেছে কি না। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দরকষাকষির ওপর। চীন জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়- এ বিষয়টি মেনে নেন কি না তিনি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হতে পারে, চীন যে প্রার্থীকে চায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন একজন প্রার্থীকে মেনে নেবে যাকে তারা অন্তত সহ্য করতে পারে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিয়ে তাদের আগের সংশয় কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেয়নি, সম্প্রতি জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদা বাবদ আরও ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারও দিয়েছে। তবে এই অর্থও আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বকেয়া অর্থের এক-চতুর্থাংশেরও কম। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মানবাধিকারকর্মী মিশেল বাচেলেট সপ্তাহান্তে এই দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম প্রার্থী হন। গত সপ্তাহের ভোটে তিনি মাত্র একটি ‘উৎসাহিত’ ভোট পাওয়ার পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

সূত্র: মানবজমিন 

  • সর্বশেষ