শিরোনাম
◈ সোলার বসিয়ে ঘরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন সরকারের কাছে ◈ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট-ভিসা বন্ধ করল লাওস ◈ কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত, ঢাকার পরবর্তী হাইকমিশনারের নিয়োগে ভারতের সম্মতি মেলেনি! ◈ যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ, পেনসিলভেনিয়ায় চার জ‌নের মৃত্যু ◈ মক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলার চেষ্টা, ভূপাতিত করল সৌদি ◈ এল‌চের বিরু‌দ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের সৌভাগ‌্যপ্রসুত জয়  ◈ এক সপ্তা‌হে ৩‌টি প্রী‌তি ম‌্যাচ খেল‌তে মা‌ঠে নাম‌ছে আর্জেন্টিনা ◈ ইমরান খানের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ার ৭ প্রাক্তন ক্রিকেট অ‌ধিনায়ক, সরকারের কাছে মানবিক পদক্ষেপের আর্জি  ◈ জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া ও গোলাম আযমের ছবি টাঙানোয় ক্ষুব্ধ ডাকসু, ‘মব’ উল্লেখ করে বিচার দাবি নেতাদের ◈ স্থানীয় নির্বাচনে মুখোমুখি জামায়াত-এনসিপি, ১১ দলীয় জোটে কি প্রভাব পড়বে?

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৪ দুপুর
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডেটা সেন্টারের জন্য হাজার হাজার ইলেকট্রিশিয়ান-কাঠমিস্ত্রী নিয়োগ দিচ্ছে এআই কোম্পানিগুলো

ডেট্রয়েটে শিক্ষানবিশ ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী টাইলার শেলটন দিনের বেশিরভাগ সময় ম্যানহোলে নেমে ক্যাবল ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী মেরামতেই কাটান। তবে সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠান নতুন কাজ শুরু হওয়া একটি বিশাল ডেটা সেন্টারে অনেক কর্মী পাঠিয়েছে।

শীঘ্রই তিনিও তাদের দলে যোগ দিতে পারেন। রাজ্য সরকারের মতে, স্যালাইন টাউনশিপে ওপেনএআই-এর প্রকল্পটি মিশিগানের ইতিহাসে একক বৃহত্তম বিনিয়োগ, যেখানে শত শত ইলেকট্রিশিয়ানকে সপ্তাহের সাত দিনই ১০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে। অতিরিক্ত আয়ের বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শেলটনের মনে মিশ্র অনুভূতি রয়েছে।

advertisement

তিনি বলেন, 'আগামী এক বছর বা তার মধ্যে আমি একটা বাড়ি কিনতে চাই। তাই সেই আকর্ষণের বিষয়টি আমি বুঝি, কিন্তু কাজের বাইরেও নিজের একটি জীবন থাকা আমি পছন্দ করি।' ডেট্রয়েট ইলেকট্রিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ট্রেনিং সেন্টারে এখন ডেটা সেন্টারের এই জোয়ার নিয়েই সবাই আলোচনা করছেন। এখানে দীর্ঘ কাজের ফাঁকে প্রায় ৮৫০ জন শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এই বিশালাকার প্রকল্পগুলো দক্ষ কারিগরদের দূর-দূরান্তে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা এই খাতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বেতন ও বোনাস পাচ্ছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিশিয়ানদের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। তাদের ডেটা সেন্টারগুলো তৈরি ও পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নিশ্চিত করতে তারা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। এই সহায়তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিও। ইন্টারন্যাশনাল ব্রাদারহুড অব ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কার্স এবং ঠিকাদারদের যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত ২৭০টি কেন্দ্রের এটি একটি।

advertisement

গুগলের একটি ৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, আগামী তিন বছরে গুগলের নির্ধারিত স্থানগুলোতে বার্ষিক শিক্ষানবিশ ভর্তির সংখ্যা ১৯ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার করার পরিকল্পনা করেছে এই জোট। ব্ল্যাকরক-এর দেওয়া আরেকটি অনুদান টেক্সাসে তাদের ডেটা সেন্টারের জন্য প্রশিক্ষণের পথ আরও প্রশস্ত করবে, যা দক্ষ কারিগরি পেশাজীবী বাড়ানোর ১০০ মিলিয়ন ডলার উদ্যোগের একটি অংশ।

ব্যক্তিগত খাত থেকে জোটের পাওয়া এই প্রথম অনুদানগুলো পরিচালনার জন্য টিনা উইলিয়ামসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, এই অর্থ কর্মীবাহিনীকে এতটাই শক্তিশালী করবে যাতে শেলটনের নিয়োগকর্তার মতো অন্যান্য গ্রাহকদের সেবা বঞ্চিত না করেই ডেটা সেন্টারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, 'আমরা প্রতিটি অঞ্চলের মূল কাজগুলো বজায় রাখার পাশাপাশি ডেটা সেন্টারের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত লোক তৈরি করতে চাই।'

advertisement

মানুষের হাতে গড়া প্রবৃদ্ধি

আমেরিকান ইতিহাসে ডেটা সেন্টার নির্মাণের সাম্প্রতিক জোয়ারের কোনো দ্বিতীয় নজির নেই। অর্থসম্পদের অধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই মডেলগুলোর বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে এক তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা এই জোয়ারকে ত্বরান্বিত করছে।

এই নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি অন্যান্য খাতের মন্দাকে বেশ ভালোভাবেই পুষিয়ে দিচ্ছে—যেমন অফিসের অবকাঠামো নির্মাণ, যা মহামারীর পর আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। পাশাপাশি চড়া সুদের হারের কারণে আবাসন খাতে ধস নেমেছে, এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে থমকে গেছে উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। তা সত্ত্বেও, অন্যান্য উপকরণের কথা বাদ দিলেও, কেবল দক্ষ শ্রমিকের জন্য এই তীব্র প্রতিযোগিতা এখন নির্মাণ শিল্পের অন্যান্য খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স-এর কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইনফ্লাস্ট্রাকচার অ্যাডভাইজরি অনুশীলনের প্রধান মারিও ইয়াকোবাচ্চি বলেন, 'সম্পদ যে অত্যন্ত সীমিত তা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই, তাই একটি জিনিস নির্মাণের সিদ্ধান্ত অন্য ক্ষেত্র থেকে সম্পদ টেনে নেয়।'

ডেভেলপাররা কর্মীদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মজুরি দিচ্ছেন, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সেই এলাকাগুলোতে যেখানে তারা ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছেন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট 'ইনডিড'-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারের ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ঘণ্টাকিত্তিক কাজগুলোতে অন্যান্য ক্ষেত্রের সমমানের চাকরির তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি মজুরি দেওয়া হচ্ছে।

এই চড়া বেতনের নেপথ্যে রয়েছে কর্মীদের নিজেদের দলে টানার তীব্র প্রতিযোগিতা। ডালাস ও নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার মতো যেসব বাজারে বিপুল পরিমাণ ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে, সেখানকার কর্মীরা বেশি বোনাস কিংবা দৈনিক অতিরিক্ত ভাতার লোভে সহজেই এক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন। এই প্রতিযোগিতার কারণে ঠিকাদাররা অ্যারোটেক-এর মতো স্টাফিং এজেন্সিগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছেন।

অ্যারোটেক-এর ডেটা সেন্টার মার্কেট ডেভেলপমেন্ট পরিচালক মার্টি শেগার বলেন, 'এটি শ্রমনীতিতে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল টানাপোড়েন তৈরি করছে। বর্তমানে এমন একটি নিষ্ক্রিয় চাকরিপ্রত্যাশী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা প্রজন্মভিত্তিক এই অনন্য 'ডেটা সেন্টার গোল্ড রাশ'-এর সুযোগটি হাতছানি দিয়ে লুফে নিতে প্রস্তুত।'

অবশ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব উদ্যোগে কর্মী প্রস্তুত করার পূর্বনজিরও রয়েছে। মাইক্রোসফট ২০১৮ সালেই ডেটা সেন্টার টেকনিশিয়ান তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত তাদের ৩৯টি কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মাণ খাতের আরও গভীরে টেনে নিয়ে এসেছে। তারা বিভিন্ন কমিউনিটি কলেজ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে যৌথভাবে এমন সব কোর্সের রূপরেখা তৈরি করছে, যাতে কর্মীদের কাজের ফাঁকে শেখার সুযোগ রেখেই যত দ্রুত সম্ভব সরাসরি নির্মাণস্থলে কাজে নামিয়ে দেওয়া যায়।

ডেটা সেন্টার নির্মাতা ও ল্যান্ডলর্ড প্রতিষ্ঠান 'ডেটা ব্যাংক'-এর নির্মাণ বিষয়ক সহ-সভাপতি টনি করি। তিনি তার ঠিকাদারদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী কর্মীবাহিনী কৌশল পরিকল্পনা তৈরিতে অনেকটা সময় ব্যয় করেন। পর্যাপ্ত কর্মী খুঁজে না পেলে বা প্রশিক্ষণ দিতে না পারলে, তিনি ঠিকাদারদের অন্য সব কাজ ছেড়ে দিয়ে তার প্রকল্পেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, 'এমনকি উচ্চমাধ্যমিক পাস করা তরুণদের পেছনেও এসব প্রতিষ্ঠান ছুটছে আর বলছে—আমরা তোমাদের প্রস্তুত করে নেব, এটাই এখন ভালো আয়ের পথ।'

বৃহৎ উদ্যোগগুলোর একটিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'মেটা' প্রথম বছরের জন্যই ১১৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। নির্মাণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিতে মেটার নেওয়া বহুবর্ষী প্রতিশ্রুতির এটি প্রথম ধাপ, যা প্রায় ৫ হাজার অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে। চার সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করা হবে, এবং কোর্স শেষে মেটার অধীনস্ত ঠিকাদারদের সাথে সরাসরি প্রকল্পস্থলে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

কর্মসূচিটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে অননুমোদিত শ্রমিক সমিতি 'অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স অ্যান্ড কন্ট্রাক্টরস'। ডেটা সেন্টারের চাহিদার সাথে মিলিয়ে তারা মৌলিক নির্মাণ কৌশলের একটি পাঠ্যক্রম তৈরি করছে, যাতে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়।

সংগঠনটির কর্মীবাহিনী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সভাপতি জোয়েল থেমস বলেন, 'আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো—যেকোনো উপায়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে মেটার প্রকল্পগুলোতে যুক্ত করা এবং নিজেদের ব্যবস্থার মধ্যেই ধরে রাখা তবে কেউ যদি অন্য কোনো খাতে চলে যায় কিংবা মেটার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন ঠিকাদারের অধীনে কাজ নেয়, তাতেও কারও আপত্তি নেই।'

উত্তর আমেরিকার বিল্ডিং ট্রেডস ইউনিয়নের সভাপতি শন ম্যাকগার্ভে, যার জোটটি প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে শিক্ষানবিশ কার্যক্রম এবং ধারাবাহিক শিক্ষা কর্মসূচিতে, যার পুরোটাই অর্থায়ন করেন নিয়োগকর্তা ও ইউনিয়ন সদস্যরা। ম্যাকগার্ভে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আগেভাগে ইউনিয়নভুক্ত কর্মীদের নিয়োগের আশ্বাস দেয়, তবে তাঁদের চাহিদামতো যেকোনো সংখ্যক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে তার জোট প্রস্তুত।

চলতি বছরের মার্চে ওপেনএআই ঠিক সেই পদক্ষেপটিই নিয়েছে। তারা ইউনিয়নভুক্ত কর্মীদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। মেটার উদ্যোগটিকে "চমৎকার একটি পাবলিক রিলেশনস কৌশল" আখ্যা দিয়ে ম্যাকগার্ভে যুক্তি দেখান যে, চার বছরের বিস্তৃত শিক্ষানবিস প্রশিক্ষণের তুলনায় মাত্র এক মাসের প্রশিক্ষণ কোনোভাবেই সমকক্ষ হতে পারে না।

তিনি বলেন, 'যেকোনো বিনিয়োগই দিনশেষে এই খাতের জন্য ইতিবাচক, কিন্তু এই দুটি বিষয়কে এক দাঁড়িপাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।'

ভবিষ্যতের ওপর নজর

হোয়াইট-কলার বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাকরিগুলোর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় জনজীবনের ওপর ডেটা সেন্টারগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে—চলতি সপ্তাহে ডেট্রয়েটের বাইরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতির সময় আয়োজিত প্রতিবাদ বিক্ষোভ যার একটি বাস্তব উদাহরণ। 

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষ কারিগরি পেশাজীবীদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের এই জমকালো প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে একাধিক উদ্দেশ্য সাধন করছে। মেটা তাদের 'আমেরিকাস ওয়ার্কফোর্স একাডেমি'-র বিজ্ঞাপনে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ভরিয়ে ফেলেছে। প্রচার কার্যক্রমে গতি আনতে তারা ন্যাশনাল আরবান লিগ এবং ইউএস হিস্পানিক চেম্বার অব কমার্সের সাথেও কাজ করছে।

হিস্পানিক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রামিরো কাভাজোস চান এআই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আরও বেশি হিস্পানিক ঠিকাদারদের নিয়োগ দেয়। তিনি মনে করেন, স্থানীয় ব্যবসাগুলোর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে যেসব এলাকায় নতুন প্রকল্প নিয়ে অনাস্থা রয়েছে, সেখানে মেটার পথ চলা সহজ হবে।

কাভাজোস বলেন, 'আমরা আমাদের নিজস্ব সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বন্ধুদের থেকে শুনছি যে, তারা এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা অনুভব করছেন। তাই এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা বা সাহায্য না করার চেয়ে, অংশীদারিত্ব রেখে সাহায্য করাটাই আমাদের জন্য শ্রেয়।'

নির্মাণ খাতের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সাথে কাজ করার অন্য একটি রাজনৈতিক সুবিধাও রয়েছে। ইস্টার্ন আটলান্টিক স্টেটস রিজিনাল কাউন্সিল অব কার্পেন্টারস-এর সহকারী নির্বাহী সচিব-কোষাধ্যক্ষ অ্যান্থনি আব্রান্টেস জানান, স্থানীয় ইউনিয়নগুলো সাধারণত কোনো প্রকল্পে কাজ পেলে সেটি সরাসরি সমর্থন করে, আর কাজ না পেলে তারা বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখে। প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখে পড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া 'অফশোর উইন্ড' বা উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ খাতের কথা মাথায় রাখলে, ডেটা সেন্টার ডেভেলপারদের স্থানীয় পর্যায়ে এই নির্ভরযোগ্যতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

আব্রান্টেস বলেন, 'ঐ খাতগুলো (বায়ুবিদ্যুৎ) অপপ্রচার বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে, আমরাই যেন এআই কোম্পানিগুলোর পক্ষে প্রচার ও তাদের ব্যবসার উন্নয়ন করে দিচ্ছি।'

তবে ডেটা সেন্টারগুলো নিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের নিজেদের মনেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। স্টার সিওরটিনো ইলেকট্রিশিয়ান ইউনিয়নের শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় বর্ষে আছেন। জটিল কোনো বৈদ্যুতিক ত্রুটি সমাধান করতে তিনি পছন্দ করেন এবং সম্প্রতি 'লেক ওরিয়ন'-এ জেনারেল মোটরসের একটি বড় ধরনের রূপান্তর প্রকল্পে কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু ডেটা সেন্টারে কাজ করাকে তিনি কোনো অস্ত্র তৈরির কারখানায় সহায়তা করার সাথে তুলনা করেছেন।

২২ বছর বয়সী সিওরটিনো বলেন, 'সম্প্রদায়ের জন্য কল্যাণকর কোনো সম্পদকে বলিদানের বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন করাকে আমি সমর্থন করি না। এই জোয়ার যতদিনই থাকুক না কেন, দিনশেষে এটা কি সত্যিই লাভজনক?'

ডেটা সেন্টার নির্মাণের এই উন্মাদনা যখন চূড়ান্ত রূপ নেবে, ঠিক তখনই এসব শিক্ষানবিশরা পূর্ণাঙ্গ টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মক্ষেত্রে পদার্পণ করবেন—ফলে এই প্রশ্নটি তাদের তাড়া করে ফিরছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রিশিয়ানরা চাইলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আবাসিক ভবন বা ওষুধ কারখানায় কাজ করতে যেতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে যা ঘটছে, তার মতো এত বড় মাপের সুযোগ অন্য কোথাও কল্পনা করা কঠিন।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির 'সেন্টার অন এডুকেশন অ্যান্ড দ্য ওয়ার্কফোর্স'-এর পরিচালক জেফ স্ট্রোহল বলেন, 'সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি হবে যদি এই সব দক্ষ কর্মীদের প্রস্তুত করার পর, ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাহিদা কমে আসার সাথে সাথেই আবাসন খাতে এক বিশাল জোয়ার আসে। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।'

জো ওটেনবাচার ইতোমধ্যে আমলাতন্ত্র ও পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে শৈশবকালীন শিক্ষা খাতের ক্যারিয়ার ছেড়ে নতুন পেশায় এসেছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, ডেটা সেন্টারের বার্ষিক ২ লাখ ডলার আয়ের চাকরি ছেড়ে যখন বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রিশিয়ান বাজারে ফিরে আসবেন, তখন তা অন্যান্য সকল খাতের কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, 'ডেটা সেন্টার নির্মাণের এই মুহূর্তে যদি বিশাল সংখ্যক কর্মী এ খাতে ঢুকে পড়ে, তবে নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে কী হবে? সেই শ্রমিকরা তখন কোথায় যাবেন? এত জমি ও এলাকা দখল করার পর, মাত্র একটি ডেটা সেন্টার সচল রাখতে আসলে কতজন মানুষের প্রয়োজন হয়?'

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ