শিরোনাম
◈ নেকড়ে হত্যা বৈধতার পথে ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে ৯০ দিনে ◈ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা ◈ ‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে নৌ পুলিশের এসআই প্রত্যাহার ◈ স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআইতেও কড়াকড়ি ইসির ◈ কর ফাঁকি ঠেকাতে আয়-ব্যয়ে গরমিল পেলেই ব্যবস্থা নেবে এনবিআর ◈ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান ◈ ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল : ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি ◈ সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ দিলো ভারত, পানির স্তর বাড়ল ১০ ফুট ◈ একই দলে খেলবেন মেসি-রোনালদো, পূরণ হচ্ছে ভক্তদের আশা ◈ মানুষের আইকিউ যেভাবে বাড়ানো যায়, কী বলছে গবেষণা

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নেকড়ে হত্যা বৈধতার পথে ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে ৯০ দিনে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধূসর নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের জন্য থাকা বিপন্ন প্রজাতির আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও আমেরিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নেকড়ের সংখ্যা বাড়ানোর কয়েক দশকের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বন্য অবস্থায় মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি। ১৯৯৮ সালে তাদের আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এই সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ায় প্রজাতিটি এখনও বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে খামারিরা এখনই নেকড়ে গুলি করে হত্যা করতে পারবেন-এমন নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রসচিব ডগ বার্গামকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেকড়েদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। নেকড়েদের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে কি না এবং তাদের শবিপন্ন প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই পর্যালোচনা করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। তাদের মতে, নেকড়ের হামলার কারণে খামারিদের আয়ের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না।

ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, নেকড়েকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন খামারিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতির প্রভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল।

ওয়ালফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নেকড়ের আক্রমণে গবাদিপশু মারা গেলে বর্তমান ব্যবস্থায় খামারিরা ক্ষতির সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নেকড়ের হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেয়।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়ালফ রিকভারি প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ক্লেয়ার মাসার বলেন, শুধু নেকড়ের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মেক্সিকান নেকড়েকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। এখন ফেডারেল সুরক্ষা দুর্বল করা হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ঝুঁকিতে পড়বে।

ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। খরার পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবী সংক্রমণের কারণে মাংসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

দাম কমানোর চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গরুর মাংস আমদানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিখিল করেছে। এতে মার্কিন খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন এতে তাদের সীমিত লাভের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেকড়েদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দেশটির সরকার নেকড়েদের নির্মূল করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। কৃষক ও ভূমিমালিকরাও নেকড়ে ধরে হত্যা করতেন। এসব কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্রে নেকড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়।

বর্তমানে নেকড়েদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন রয়েছে। ফলে গবাদিপশুর ওপর হামলা করলেও অনুমতি ছাড়া নেকড়ে হত্যা করা অনেক ক্ষেত্রে ফেডারেল আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: আরটিভি 

  • সর্বশেষ