শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২১ বিকাল
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৭ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কম পুঁজিতে আমেরিকায় যে ১০ ব্যবসা শুরু করা যায়

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের পাশাপাশি কম পুঁজিতে বেশ কয়েকটি ব্যবসা করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য, শহর ও এলাকার নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও ব্যবসার লাইসেন্স, কোথাও বিশেষ অনুমতি, বীমা বা পেশাগত সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় নিয়মকানুন যাচাই করা জরুরি।

নিচে কম পুঁজিতে ১০টি ব্যবসার আইডিয়া দেওয়া হল:-

১. ক্লিনিং ব্যবসা

বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। একা কিংবা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করে পরিচিতজন, স্থানীয় কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যবসার লাইসেন্স বা স্থানীয় অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শহর বা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

২. ফুড কার্ট বা হালাল খাবারের ব্যবসা

বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল খাবারের চাহিদা থাকায় ফুড কার্ট একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্কে খাবারের কার্ট বা ট্রাক পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, অনুমতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের শর্ত রয়েছে।

৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি

নিজস্ব গাড়ি থাকলে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি কাজের মাধ্যমে আয় শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, বীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আইটিআইএন থাকলেই সব রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৪. বাসাভিত্তিক শিশু যত্নের ব্যবসা

নিজের বাসা থেকে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবসা করার সুযোগ কিছু এলাকায় রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত একটি সেবা এবং অঙ্গরাজ্য ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্কে বাসাভিত্তিক পারিবারিক শিশু যত্নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের সেবা সংশ্লিষ্ট শিশু ও পরিবারসেবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

৫. কাপড়ের ব্যবসা ও অনলাইন বুটিক

কম পরিসরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। থ্রিফট স্টোর থেকে পোশাক কিনে অনলাইনে বিক্রি করা কিংবা বাংলাদেশি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক নিয়ে অনলাইন বুটিক চালু করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে স্থানীয় কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়।

৬. নাপিত ও বিউটি সার্ভিস

চুল কাটা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যসেবা দেওয়ার দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা যেতে পারে। কেউ বাসা থেকে সেবা দিতে পারেন, আবার চাইলে দোকানেও কাজ শুরু করতে পারেন। তবে নাপিত, কসমেটোলজি বা বিউটি সার্ভিসের লাইসেন্সের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই প্রশিক্ষণ বা ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।

৭. নোটারি ও ভাষা সহায়তা

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবা এবং বৈধ অনুবাদ বা নথিপত্র প্রস্তুতিতে সহায়তার কাজ করতে পারেন। তবে নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব ও ফি অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। একইভাবে ইমিগ্রেশন বিষয়ে আইনি পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া ইমিগ্রেশন আইনজীবীর কাজ করা যাবে না।

৮. ট্যাক্স ও আইটিআইএন সহায়তা

ট্যাক্স মৌসুমে ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত করা কিংবা আইটিআইএন আবেদনে অনুমোদিতভাবে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইটিআইএন আবেদনে সহায়তার সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে।

৯. মুভিং হেল্প ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস

ফার্নিচার জোড়া লাগানো, বাসা বদলের কাজে সহায়তা এবং ছোটখাটো মেরামতের মতো দক্ষতাভিত্তিক সেবা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবসায় বড় ধরনের পণ্য মজুত রাখার প্রয়োজন না থাকায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং বা নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য স্থানীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।

১০. ইউটিউব ও টিকটক কনটেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, চাকরি, ব্যবসা, গাড়ি চালানো, স্কুল, অভিবাসন প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেও দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করতে হয়।

প্রসঙ্গত, ব্যবসা শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন ও নিয়ম জানা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন নির্বাচন, নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, লাইসেন্স, অনুমতি এবং ব্যবসায়িক বীমার বিষয়গুলো শুরুতেই যাচাই করা উচিত।

প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন নেওয়া যায়। যোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নম্বর নেওয়ার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।

নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকেও পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়ে এসব কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে এক অঙ্গরাজ্যে যে ব্যবসা সহজে করা যায়, অন্য অঙ্গরাজ্য বা শহরে সেটির জন্য আলাদা লাইসেন্স, অনুমতি কিংবা এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, সেটিই নয়, ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় আইন, কর, লাইসেন্স, অনুমতি ও বীমার বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: আর টিভি 

  • সর্বশেষ