শিরোনাম
◈ নেকড়ে হত্যা বৈধতার পথে ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত আসতে পারে ৯০ দিনে ◈ বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা ◈ ‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে নৌ পুলিশের এসআই প্রত্যাহার ◈ স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআইতেও কড়াকড়ি ইসির ◈ কর ফাঁকি ঠেকাতে আয়-ব্যয়ে গরমিল পেলেই ব্যবস্থা নেবে এনবিআর ◈ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান ◈ ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল : ৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি ◈ সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ দিলো ভারত, পানির স্তর বাড়ল ১০ ফুট ◈ একই দলে খেলবেন মেসি-রোনালদো, পূরণ হচ্ছে ভক্তদের আশা ◈ মানুষের আইকিউ যেভাবে বাড়ানো যায়, কী বলছে গবেষণা

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৬ রাত
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিংড়ির রেণু সংকটে বিপাকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাষিরা

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনঘেরা বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ জনপদে চিংড়ি চাষকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে বাগেরহাটের ফকিরহাট, খুলনার উপকূলীয় এলাকা ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চিংড়ি চাষ হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু চলতি মৌসুমে চিংড়ির রেণু (পোনা) সংকট নতুন করে চাষিদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

ঘেরে রেণু ছাড়ার নির্ধারিত সময় প্রায় শেষের দিকে। অথচ অনেক চাষিই প্রয়োজনীয় পোনার সামান্য অংশ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। কয়েক মাস আগে ঘের প্রস্তুত করে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেও রেণুর অভাবে চাষ শুরু করতে না পারায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। কোথাও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কম, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

একসময় চিংড়ির রেণুর কেনাবেচায় জমজমাট থাকা বাগেরহাটের ফকিরহাটের ফলতিতা বটতলা ও আশপাশের বাজারগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজারে রেণুর সরবরাহ কম থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক উৎস থেকে রেণু সংগ্রহে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, পরিবহন ও বিপণনে কড়াকড়ি, স্থানীয় হ্যাচারি কমে যাওয়া এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে রেণু পরিবহনের কারণে বর্তমান সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এর প্রভাব শুধু চিংড়ি উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; চাষি, রেণু ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহনকর্মীসহ এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকায়ও পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব।

ফকিরহাটে চাহিদার তুলনায় রেণু সরবরাহ নগণ্য

উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফকিরহাটে বর্তমানে ৮ হাজার ৪টি বাণিজ্যিক ঘের ও ২ হাজার ৬০৮টি পুকুর রয়েছে। এসব জলাশয়ের জন্য বছরে প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ বাগদা এবং ৭ কোটি ৪৬ লাখ গলদা রেণু প্রয়োজন হয়।

তবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বাস্তবে রেণুর চাহিদা সরকারি হিসাবের তুলনায় আরও বেশি। চলতি মৌসুমে ফকিরহাটে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি রেণু প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি।

নলধা, ঠিকরিপাড়া ও মূলঘর এলাকার বিভিন্ন ঘের ঘুরে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ঘের প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত রেণু না পাওয়ায় এখনো পোনা ছাড়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঘের তৈরিতে করা বিনিয়োগের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বাড়ছে।

ঠিকরিপাড়ার চাষি দাউদ হায়দার বাবু জানান, এক একর ঘের প্রস্তুত করতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিবছর তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পোনা ছাড়েন। কিন্তু চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হাজার পোনা সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে ঘের প্রস্তুত করেছি। সময়মতো পোনা দিতে না পারলে পুরো বিনিয়োগই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে রেণুর দাম

রেণু ব্যবসায়ী শেখ মনি জানান, গত বছর প্রতি হাজার রেণু ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

তাঁর দাবি, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সরবরাহকারীদের কাছে অগ্রিম দেওয়া প্রায় ৭৮ লাখ টাকার বিপরীতে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রেণু পাওয়া যায়নি।

ফকিরহাট প্রাকৃতিক চিংড়ি পোনা আড়তমালিক সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম খোকন বলেন, স্থানীয়ভাবে রেণুর উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাষিরা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় জেলা থেকে সংগৃহীত রেণুর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

চিংড়ি ঘিরে বিশাল অর্থনীতি

চিংড়ি শুধু একটি মাছ নয়; দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফকিরহাট উপজেলা মৎস্য চাষি সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ফলতিতা বাজারে প্রায় ৫০০ মাছের আড়ত রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ কোটি টাকার মাছের বেচাকেনা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এই বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক ও পরিবহনকর্মী সম্পৃক্ত বলে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উপজেলার বিপুলসংখ্যক ঘের ও পুকুরকে ঘিরেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের হিসাবে, গত অর্থবছরে ফকিরহাটে ২ হাজার ৩১৫ টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৩০ টন। তবে রেণু সংকট অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

কমেছে হ্যাচারি, বেড়েছে নির্ভরতা

বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম রাকিবুল ইসলাম জানান, ২০১১-১২ সালে দক্ষিণাঞ্চলে ৭৮টি হ্যাচারি থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৩৭টিতে নেমে এসেছে। এর ফলে রেণু উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে রেণু সংগ্রহ ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। এ কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু ব্যবহারে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ হওয়ায় দ্রুত সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

সাতক্ষীরায় ২৬৪ কোটি রেণুর ঘাটতি

বাগেরহাটের পাশাপাশি সাতক্ষীরাতেও চলতি মৌসুমে চিংড়ি রেণুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাষিরা রেণু সংগ্রহের জন্য শহরের বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে ভিড় করছেন।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৩৪৪ কোটি ৫৫ লাখ চিংড়ি রেণুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বাগদা ৩৩৪ কোটি এবং গলদা ১০ কোটি ৫৫ লাখ।

এর বিপরীতে জেলার ১০টি হ্যাচারিতে মোট ৮০ কোটি ৬ লাখ রেণু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২৬৪ কোটি ৪৯ লাখ রেণুর ঘাটতি রয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় প্রায় ৬৬ হাজার ৭৬০টি চিংড়ি ঘের রয়েছে। এর মধ্যে বাগদা ঘের ৫৫ হাজার ১২২টি এবং গলদা ঘের ১১ হাজার ৬৩৮টি।

রেণু কেনাবেচায় শতকোটি টাকার বাজার

চাষি ও পোনা সরবরাহকারীদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমাণ চিংড়ি রেণুর প্রয়োজন হবে। একটি রেণুর বক্সে দুই পলিতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার রেণু থাকে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা শহরে প্রতি বক্স রেণু প্রায় ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, পুরো মৌসুমে জেলার রেণু কেনাবেচার বাজারের আকার শতকোটি টাকারও বেশি হতে পারে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে চাহিদা পূরণ সম্ভব না হওয়ায় বড় একটি অংশ বাইরের জেলা থেকে আনতে হচ্ছে।

দূরপাল্লার পরিবহনে নষ্ট হচ্ছে পোনার গুণগত মান?

চিংড়ি চাষিদের অভিযোগ, সাতক্ষীরার ঘেরে ব্যবহৃত রেণুর বড় একটি অংশ কক্সবাজারসহ দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকার হ্যাচারি থেকে আসে। দীর্ঘ সময় পরিবহনের কারণে অনেক সময় পোনার গুণগত মান কমে যায় বলে তাঁদের দাবি।

চাষিদের অভিযোগ, ঘেরে ছাড়ার আগেই কিছু রেণু মারা যাচ্ছে। অক্সিজেনের ঘাটতি, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও পরিবহনের দীর্ঘ সময়কে এর অন্যতম কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। এতে একই ঘেরে একাধিকবার রেণু ছাড়তে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

তবে কক্সবাজারের হ্যাচারি প্রতিনিধিদের কেউ কেউ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ভারতীয় রেণু ব্যবহারের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে ঘেরে পোনা টিকছে না। তাঁদের মতে, কক্সবাজার থেকে নপ্লি এনে সাতক্ষীরার হ্যাচারিতে উৎপাদন করা গেলে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে বেশি মানানসই রেণু পাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় হ্যাচারির রেণুতে ভালো ফলের দাবি

সাতক্ষীরার চাষিদের একটি অংশ স্থানীয় হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণুর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রেণু মাটি ও পানির পরিবেশের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।

ঘের মালিক আব্দুল মাজিদ বলেন, সাতক্ষীরার হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু স্থানীয় মাটি ও পানির সঙ্গে সহনশীল হওয়ায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা নিউমার্কেটসংলগ্ন আখি ফিসের মালিক বিশ্বজিত জানান, বর্তমানে জেলায় চিংড়ি রেণুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় এবার দাম কিছুটা বেশি।

আশাশুনির পূর্ব কাঁদাকাটি এলাকার চাষি দীপঙ্কার জানান, রেণু সংকটের কারণে সময়মতো ঘেরে পোনা ছাড়তে পারছেন না। পাঁচ বিঘা জমিতে তাঁর ঘের রয়েছে। স্থানীয় হ্যাচারির রেণু সংগ্রহ করতে চাইলেও সরবরাহ কম থাকায় বাইরে থেকে পোনা কিনতে হচ্ছে।

মা চিংড়ি সংরক্ষণের দাবি

সাতক্ষীরার হ্যাচারি মালিকদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে মা চিংড়ি সংরক্ষণ ও হ্যাচারি শিল্প সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্থানীয়ভাবে মানসম্মত রেণু উৎপাদন বাড়াতে পারলে একদিকে চাষিদের দূরবর্তী এলাকা থেকে পোনা আনার ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, রেণুর গুণগত মান ভালো হলেও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কক্সবাজার থেকে আনা রেণু পরিবহনের পর তাপমাত্রার ব্যবধানের কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তাঁর মতে, স্থানীয় হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণুর ব্যবহার বাড়ানো এবং সরকারি উদ্যোগে আরও হ্যাচারি স্থাপন করা গেলে চিংড়ি খাত আরও এগিয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

নীতিমালা মানার ওপর জোর মৎস্য বিভাগের

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে রেণু পোনা সরবরাহ ও বিপণন করতে হবে। কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ সময় ধরে রেণু পরিবহনের কারণে গুণগত মান নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় মা চিংড়ি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া গেলে স্থানীয়ভাবে ভালো মানের রেণু উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একই ঘেরে বারবার রেণু ছাড়ার প্রয়োজন কমে আসবে। এ বিষয়ে নতুন হ্যাচারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংকট শুধু রেণুর নয়, পুরো চিংড়ি অর্থনীতির

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি খাত দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই শিল্পের সঙ্গে ঘের মালিকের পাশাপাশি শ্রমিক, রেণু ব্যবসায়ী, আড়তদার, পরিবহনকর্মী, বরফ ব্যবসায়ী, খাদ্য ও সরঞ্জাম বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত।

ফলে মৌসুমের শুরুতেই রেণুর ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব পুরো সরবরাহব্যবস্থায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চাষিদের আশঙ্কা, দ্রুত রেণুর সরবরাহ বাড়ানো না গেলে নির্ধারিত সময়ে ঘেরে পোনা ছাড়া সম্ভব হবে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে চাষিদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি।

সমাধান কোথায়?

চিংড়ি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটাতে একদিকে সরকারি নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যদিকে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মানসম্মত হ্যাচারি বাড়াতে হবে। মা চিংড়ি সংরক্ষণ, উন্নত ব্রুডস্টক ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ, রেণু পরিবহনে আধুনিক ব্যবস্থা এবং হ্যাচারি পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

চাষিদের প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে রেণু সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অন্যথায় রেণুর অভাব ও উচ্চমূল্যের কারণে শুধু চলতি মৌসুমের চিংড়ি উৎপাদন নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তৃত চিংড়ি অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

  • সর্বশেষ