স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ থেকে রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে গোপনে ভিডিও ধারণ করেছিলেন তাইওয়ানের এক ব্যক্তি। সেই ভিডিও আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণও আদায় করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণের অপরাধে তাকেই পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত আদালতের রায়ে এ তথ্য জানা গেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিয়ে করেন ওই ব্যক্তি। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। ছুটির সময় তারা নিজেদের আরেকটি বাড়িতে যেতেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেই বাড়িতে একটি ব্যবহৃত টুথব্রাশ দেখতে পাওয়ার পর স্ত্রীর প্রতি তার সন্দেহ বাড়ে। পরে পার্কিং গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে তিনি এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যাকে এর আগে স্ত্রীকে গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিতে দেখা গিয়েছিল।
এর প্রায় তিন মাস পর সন্দেহের সত্যতা যাচাই করতে অভিনব কৌশল নেন তিনি। মোবাইল অ্যাপ দিয়ে দূর থেকে ছুটির বাড়িতে থাকা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার চালু করেন। যন্ত্রটিতে লাইভ ভিডিও ও অডিও সুবিধা ছিল।
ভিডিওতে তিনি স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর সেই দৃশ্য গোপনে সংরক্ষণ করেন।
পরে ওই ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে স্ত্রী ও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন তিনি। প্রথমে ২০ লাখ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও আদালত তাদের সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্বের বাইরে বলে বিবেচনা করে যৌথভাবে ৫ লাখ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি আইনি লড়াই। এরপর স্বামীর বিরুদ্ধে গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলা করেন তার স্ত্রী।
আদালতে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ভিডিওটি যেহেতু দেওয়ানি মামলায় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল, তাই এটি বৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের ভাষ্য, বৈবাহিক সম্পর্ক থাকলেও একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে। ইচ্ছাকৃতভাবে গোপনে ভিডিও ধারণ করায় তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন।
আদালত আরও উল্লেখ করে, রোবট ভ্যাকুয়াম চালু থাকা অবস্থায় আলো জ্বলা বা শব্দ হওয়ার বিষয়টি ভিডিও ধারণের বিষয়ে স্ত্রীর সম্মতির প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত দৃশ্য বেআইনিভাবে ধারণের দায়ে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ৫০ হাজার তাইওয়ান ডলার জরিমানা করা হয়।
তাইওয়ানের আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ কর্মকাণ্ড গোপনে ধারণ বা প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ তাইওয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ, স্ত্রীর কথিত পরকীয়ার প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্য হলেও সেই প্রমাণ সংগ্রহের পদ্ধতিই শেষ পর্যন্ত ওই স্বামীর জন্য কারাদণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।