শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২০ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন শেহজাদ পুনেওয়ালা

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পরিচিত মুখ এবং জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালার আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেহজাদ পুনেওয়ালা নিজেই। 

advertisement

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন তিনি। সেখানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পরিচয়টি সরিয়ে দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজীবন অনুসারী হিসেবে নিজের পরিচয় বহাল রাখেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ধর্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আদর্শের কথাও উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন শেহজাদ। সরকারের নীতি এবং দলের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি নিয়মিত সেখানে অংশ নিতেন। তীক্ষ্ণ বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। 

advertisement

শেহজাদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। আইনজীবী পেশার পাশাপাশি তিনি দলের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিরপেক্ষ ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়েছে। 

এরপর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শেহজাদ। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেই তাকে দেখা গেছে।

advertisement

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের অংশ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন শেহজাদ। সেখানে তার বক্তব্যে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই জল্পনার মধ্যেই এলো তার পদত্যাগের ঘোষণা। শেহজাদ পুনেওয়ালা পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালার ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেহজাদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের মধ্যে মতাদর্শিক দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সরাসরি আলোচনায় দুই ভাইকে একে অপরের কঠোর সমালোচনা করতেও দেখা গেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। 

এদিকে শেহজাদের পদত্যাগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দলও ব্যক্তিগত কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় উল্লেখ করেনি। ফলে তার এই সিদ্ধান্ত শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে- তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন মুখপাত্রের আকস্মিক পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিজেপি বিরোধীদের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে রয়েছে।

শেহজাদ ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো ভূমিকায় নিজেকে যুক্ত করবেন- সে বিষয়েও এখনো কিছু জানাননি। ফলে তার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • সর্বশেষ