শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৩ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

একই পুরুষকে বিয়ে করলেন তিন বোন! বহুবিবাহ নিয়ে কী বলছে ভারতের আইন? (ভিডিও)

ভারতের উত্তর প্রদেশের তিন যুবতী বিয়ে করেছেন এক যুবককে। বলা হচ্ছে, এর মধ্যে দু’জন আপন বোন। তৃতীয়জন তাদের কাজিন। ইন্সটাগ্রাম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের বিয়ের ভিডিও। সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে গেছে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সেখানে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় এক যুবককে তিন তরুণীর বিয়ে করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, একটি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে একই বরকে ঘিরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। বরকে প্রথমে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাক ঘুরতে এবং পরে তিন কনের প্রত্যেকের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তিন যুবতীর নাম সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ। সংবাদ বিশ্লেষণ

তারা উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার ধোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দু’জন আপন বোন এবং তৃতীয়জন তাদের কাজিন। চাচাতো বা ফুফাতো বোন হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তিনজনকেই সহোদরা বোন বলে উল্লেখ করেছেন। বরের নাম বিকাশ। তিনি ‘ভিক্কু’ নামেও পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন যুবতীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ধারণ করতেন। ছয় মাস ধরে বিভিন্ন ভিডিওতে তিনি তাদের অনস্ক্রিন স্বামীর চরিত্রেও অভিনয় করছিলেন। প্রথমে অনেকেই ধারণা করেন, তাদের বিয়ের ওই ভিডিও কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো একটি নাটকীয় ভিডিও। তবে পরে চারজনই ক্যামেরার সামনে এসে দাবি করেন, এটি বাস্তব বিয়ে, কোনো রিলস বা কনটেন্ট তৈরির অংশ নয়।

advertisement

তিন যুবতীর দাবি, তারা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের আলাদা আলাদা পাত্রের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন শুরু হলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাদের ভাষ্য, একসময় তারা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত নেন, আলাদা না হয়ে একই ব্যক্তিকে বিয়ে করবেন, যাতে আজীবন একসঙ্গেই থাকতে পারেন। তাদের একজন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছি। বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারিনি। যখন বুঝলাম বিয়ে আমাদের আলাদা করে দেবে, তখন আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত নিই, মরার চেয়ে একজনকেই বিয়ে করে একসঙ্গে থাকাই ভালো। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে ট্রল বা আপত্তিকর মন্তব্য না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন। জানা গেছে, সরোজ বর্তমানে বি-টেক পড়ছেন। অন্য দুই তরুণী সাবিত্রী ও সন্তোষ দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেছেন। অন্যদিকে বিকাশ বলেন, তিন তরুণীর গভীর সম্পর্কের বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাদের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই বিয়েতে রাজি হয়েছেন।

advertisement

ভাইরাল ভিডিওটি হাসানপুর এলাকার মা চামুণ্ডা মন্দিরে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, মন্দির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে জানার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভিডিও ধারণের সময় মন্দিরে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছিল। সে সময় সেখানে কোনো পুরোহিত বা মন্দিরের কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এমন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তারা অবগত নন। ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কয়েকটি হিন্দু সংগঠন বিয়ের বৈধতা এবং ভিডিওতে প্রদর্শিত ধর্মীয় আচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে অনেকে যুক্তি দিয়েছেন, যদি সংশ্লিষ্ট সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং পারস্পরিক সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। সমালোচনার জবাবে তিন তরুণী আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, প্রাচীনকালে রাজা দশরথের তিনজন রানি ছিলেন। তখন কি সেটাকে অসম্মানজনক বলা হতো?

advertisement

ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, বৈধ হিন্দু বিয়ের শর্ত হলো- বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর কারও জীবিত বৈধ জীবনসঙ্গী থাকা চলবে না। অর্থাৎ একজন হিন্দু পুরুষ একই সময়ে একাধিক নারীকে আইনগতভাবে বিয়ে করতে পারেন না। প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় করা দ্বিতীয় বিয়ে আইনগতভাবে অবৈধ বলে গণ্য হয়। এছাড়া এমন ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর ধারা ৮২ ধারা অনুযায়ী বহুবিবাহের অভিযোগে ফৌজদারি অপরাধও হতে পারে।

তবে এই ভাইরাল বিয়ের ঘটনায় আদৌ আইনগতভাবে বৈধ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কি না, নাকি এটি কেবল আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী অনুষ্ঠান ছিল- সেটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। তাই ভিডিওর ভিত্তিতে আইনি অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

 

  • সর্বশেষ