শিরোনাম
◈ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল : স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইবে ইসি ◈ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ◈ সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ◈ পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ◈ শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমাই: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অস্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাসে চমকে দেশ, শুরু তুমুল বিতর্ক ◈ সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললে ভোগান্তি কমাতে এনআইডি যাচাইয়ে আসছে আইরিশ স্ক্যান ◈ ক্রসফায়ারে যুবলীগ নেতা একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ◈ হজযাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা: ১৫ বছরের নিচে শিশু ও গুরুতর রোগীরা যেতে পারবেন না

প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০২:৩২ দুপুর
আপডেট : ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমাই: জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অস্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাসে চমকে দেশ, শুরু তুমুল বিতর্ক

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ছুটির পুরো সময় তিনি আবারও নীতিমালাসংক্রান্ত নথিপত্র পড়েছেন এবং জমে থাকা হাজার হাজার ই-মেইলের জবাব দিয়েছেন। তিনি লেখেন, বহুদিন পর এবারই প্রথম তিনি টানা পুরো পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। সাধারণত তিনি মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমিয়ে অভ্যস্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, হাতে পাওয়া অল্প অবসর সময়ে তিনি অন্তর্বাস ইস্ত্রি করেছেন, ছিঁড়ে যাওয়া স্কার্ট সেলাই করেছেন এবং জ্যাকেটের ঢিলা বোতামগুলো শক্ত করে সেলাই করেছেন।

সোমবার ছিল জাপানে 'সমুদ্র দিবস', একটি সরকারি ছুটির দিন। এদিন গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেক মানুষ সাঁতার কাটতে, সার্ফিং করতে কিংবা সমুদ্রসৈকতে আরাম করে সময় কাটাতে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তা করেননি।

এসব মন্তব্যের মাধ্যমে তাকাইচি নিজেকে এমন একজন সাধারণ ও বাস্তবধর্মী নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যিনি জাপানের নাগরিকদের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু তার ওই পোস্ট, যা ইতোমধ্যে তিন কোটি ১০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে, উল্টো দেশজুড়ে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের ঝুঁকি নিয়ে জাতীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ভাষায়, এর প্রভাব অনেকটা মাতাল অবস্থার মতো, যা জাতীয় সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংসদে তাকাইচির আরেক সমালোচক হিরোইউকি কোনিশি তার পদত্যাগ দাবি করে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত কাজ হলো নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা এবং নির্দেশ দেওয়া, প্রতিটি নথির শেষ খুঁটিনাটি পর্যন্ত পড়ে বসে থাকা নয়।'

জনতাবাদী রক্ষণশীল একটি দলের নেতা ইউইচিরো তামাকি বলেন, তাকাইচি নিঃসন্দেহে একজন পরিশ্রমী মানুষ। তবে তিনি যোগ করেন, 'বিশ্রাম নেওয়াও একটি কাজ।'

এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও তাকাইচির কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির আরও বেশি সহায়তা পাওয়া উচিত। টোকিওর ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়োকো ইওয়ামার মতে, আগের অনেক প্রধানমন্ত্রী ঘরের কাজের জন্য তাদের স্ত্রীর ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু তাকাইচিকে নিজেই অনেক গৃহস্থালির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

প্রভাবশালী ব্যবসায়িক দৈনিক নিক্কেই-এ প্রকাশিত এক লেখায় ইয়োকো ইওয়ামা বলেন, 'জাপানের প্রধানমন্ত্রী যেন ব্যক্তিগতভাবে গৃহস্থালির কাজ সামলাতে বাধ্য না হয়ে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারেন, এমন একটি সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে তা সমাজে নারীর অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'

সাম্প্রতিক সময়ে তাকাইচি সংসদের গ্রীষ্মকালীন বিরতি শুরুর আগে তার আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলো পাস করাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শনিবার থেকে সংসদের গ্রীষ্মকালীন বিরতি শুরু হওয়ার কথা।

এদিকে তিনি দেশের চলমান অর্থনৈতিক সমস্যাও মোকাবিলা করছেন। জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মূল্য ৩৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তার জনপ্রিয়তাও কিছুটা কমেছে, যদিও তার অনুমোদনের হার এখনো তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো রয়েছে।

নিজের পোস্টে তাকাইচি সাম্প্রতিক সময়ের কাজের চাপ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি জানান, জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি কাজ করছেন। সপ্তাহান্তেও তিনি নিজের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করে মোটা মোটা নথির স্তূপ পড়ে সময় কাটিয়েছেন।

তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, তিনি ইস্ত্রি করতে খুব একটা পারদর্শী নন এবং এতে তার অনেক সময় লেগে যায়। তবে ছুটির দিনে ইস্ত্রি করার পর তিনি সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করার মতো পর্যাপ্ত রুমাল ও অন্তর্বাস প্রস্তুত করতে পেরেছেন।

তিনি লেখেন, 'আগামীকাল থেকে আমি আবার পুরো শক্তি দিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারব!'

তাকাইচির সমর্থকেরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, কাজ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের চাপ সামলানোর বাস্তব চিত্র তিনি অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আয়ানো কুনিমিৎসু বলেন, তাকাইচির মতো অন্যান্য রাজনীতিকদেরও নিজেদের গৃহস্থালির কাজ নিজেরাই সামলানোর চাপের মুখে পড়তে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ তিনি লেখেন, 'প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব পরিস্থিতি এবং অজানা অনেক গল্প থাকে। আপনারা যদি সেগুলো উপলব্ধি করেন, তবে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।'

জাপান দীর্ঘ কর্মঘণ্টার সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। দেশটির অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা দিনে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করেন।

ব্যবসা ও সরকারি খাতে কর্মীরা প্রায়ই এমন চাপের মুখে থাকেন যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অফিস ছেড়ে যাওয়ার আগে তাদেরও বের হওয়া অনুচিত বলে মনে করা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত সময় কাজ করাকে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য ও নিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর, যা 'কারোশি' নামে পরিচিত, বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটেছে।

২০১৬ সালে বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান ডেনৎসুর কর্মী মাতসুরি তাকাহাশি মাসে ১০০ ঘণ্টারও বেশি অতিরিক্ত কাজ করার পর আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যু ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং এর পর সরকার মাসে অতিরিক্ত কাজের সর্বোচ্চ সীমা ৪৫ ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর ফলে কর্মসংস্কৃতির কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

নব্বইয়ের দশকে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তাকাইচি নিজের কঠোর কর্মনিষ্ঠাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, 'আমি কাজ করব, কাজ করব, কাজ করব, কাজ করব এবং কাজ করব।'

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে নিজের ব্যস্ত কর্মসূচি তুলে ধরেন। জানুয়ারিতে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে লিখেছিলেন, কীভাবে ছুটির মৌসুমে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরের কাজ সামলানোর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক নানা বিষয়ও মোকাবিলা করছিলেন।

এটি এই প্রথম নয় যে তার ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত নভেম্বরে ভোর তিনটায় নিজের সহকারীদের তলব করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।

পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, তার বাড়ির ফ্যাক্সযন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই একটি বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য অন্য একটি কার্যালয়ে যেতে এবং প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে তিনি তার কর্মীদের সহায়তা চেয়েছিলেন। অনুবাদ: টিবিএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়