যুক্তরাষ্ট্র টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে অন্তত ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৯ জন আহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার (পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা) দিকে শুরু হয় এই বিমান হামলা। এই হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেয়া।’
সেন্টকমের ভাষ্য, ‘ফাইটার জেট, ড্রোন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মার্কিন বাহিনী নির্ভূল অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হেনেছে, যা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার মতো কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
হামলার তথ্য নিশ্চিত করে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর এবং বন্দর-ই খামির এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-ই খামির সড়ক সেতুতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সেতুটি বন্দর আব্বাসকে দেশের অভ্যন্তরের অন্যান্য শহরের সাথে সংযুক্ত করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন আগে ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে দুই দেশ পরস্পরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করার পর থেকেই উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
এদিকে সেন্টকম আরও দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের বাহিনী বাধা দেয়। নির্দেশ অমান্য করায় একটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয় এবং আরেকটিতে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে আল জাজিরার দোহাভিত্তিক প্রতিবেদক আকসেল জাইমোভিচ জানান, চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা