শিরোনাম
◈ নতুন পাঁচজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব ◈ ইতালির তৃতীয় বিভাগ ক্লাব রাভেনা এফসির অংশীদার হলেন রোনালদিনহো ◈ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ◈ ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ আজ: বঙ্গভবনে অতিথিদের ভিড়, জোরদার নিরাপত্তা ◈ ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন কঠিন, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি তরুণদের স্বপ্ন ◈ বিমান থেকে সরানো হচ্ছে আফরোজাকে, পাচ্ছেন যে মন্ত্রণালয় ◈ সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে যা বলছে ভারত ◈ রাজস্থানে ককরোচ পার্টির ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ◈ তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতির খবর দিয়ে আবার প্রত্যাহার করল ভারত

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শোকের নগরী তেহরান, শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় খামেনি

তীব্র দাবদাহ আর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে গেছে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বর। আগামী শনিবার (৪ জুলাই) এই কমপ্লেক্সেই রাখা হবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরান শাসন করা খামেনির এই রাষ্ট্রীয় জানাজাকে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতে রূপ দিতে এখন দিন-রাত এক করে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন শত শত কর্মী।

আজ বৃহস্পতিবার বিশেষ অনুমতি নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করে এই বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতির চিত্র তুলে এনেছে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লার চারপাশের নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই জোরদার করা হয়েছে যে, মূল প্রবেশদ্বারে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর কয়েক ডজন চৌকস কর্মী। ওই এলাকায় চলাচলকারী প্রতিটি গাড়ি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং বিশেষ পাস বা অনুমতিপত্র ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাইরে অবস্থান করা উৎসুক সাধারণ মানুষ দূর থেকেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখছেন।

কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে কালো, লাল আর সবুজ রঙের বিশাল সব ব্যানার ও পতাকা। এর মধ্যে কালো পতাকাগুলো গভীর শোকের প্রতীক আর লাল পতাকাগুলো শিয়া ঐতিহ্য অনুযায়ী শাহাদাত ও ‘প্রতিশোধের’ বার্তা বহন করছে। দেয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রয়াত খামেনির বিশালাকার সব প্রতিকৃতি, যার একটিতে ১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তরুণ যোদ্ধাদের পাশে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খামেনির ঐতিহাসিক উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মুখ ও মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে মাঠের পরিচর্যা করা হোসেইন মোগাদ্দাসি নামের এক কর্মী বলেন, ‘আমাদের শহীদ রাহবারকে শেষ বিদায় জানাতে আমরা এখানে ফুল গাছ লাগাচ্ছি এবং ঝোপঝাড়গুলোতে পানি দিচ্ছি।’

এদিকে আগামী শনিবার তেহরানের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে চলে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রস্তুতিতে জানাজায় অংশ নিতে আসা লাখ লাখ শোকাকুল মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে ইতিমধ্যে শত শত কার্টন সুপেয় পানির বোতল ট্রাকে করে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল ফটক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, কেবল তেহরানের এই জানাজায়ই ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বা ভিড়ের চাপ সামলাতে কমপ্লেক্সের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী যান।

পুরো মোসাল্লা চত্বরে খামেনির বিখ্যাত সব উক্তি-সংবলিত ব্যানারের পাশাপাশি পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে খামেনির ‘উত্তোলিত বজ্রমুষ্টির’ ছবি-সংবলিত পোস্টার সর্বত্র দৃশ্যমান। ব্যানারগুলোতে লেখা রয়েছে—‘আমরা শোকাহত, কিন্তু আমরা সোজা দাঁড়িয়ে আছি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনির সঙ্গে নিহত তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনির মরদেহও এই বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির পাশাপাশি রাখা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। মূল মোসাল্লা ভবনে তিন দিনব্যাপী সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী সোমবার রাজধানী তেহরানের রাস্তায় এক বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর পরদিন মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে এবং বুধবার ইরাকের কারবালা ও নাজাফের মাজারগুলোতে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের নগরী তথা খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাঁকে সমাহিত করার মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ শোকযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আজ দেশবাসীকে এই জানাজায় দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খামেনির এই জানাজায় জনগণের ঐতিহাসিক উপস্থিতিই হবে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ এবং এই প্রতিশোধের আওয়াজ যেন পুরো বিশ্বের কানে গিয়ে পৌঁছায়।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়