শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকারে মঈন খান: অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা ◈ ছাত্র অবস্থায় এমপি, দুই দশক পর প্রতিমন্ত্রী শামীম লিংকন ◈ দুই প্রতিমন্ত্রী এক মন্ত্রণালয়ে ◈ ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মিছিল, ৬ মাসে ১০০ জনের মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  ◈ প্রথমবার পূর্ণমন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে ◈ মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে ◈ শনিবার টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ শ‌নিবার শুরু দ্বিতীয় টেস্ট, জিত‌লে ইতিহাস গড়বে  বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো ◈ শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন রাষ্ট্রপতি ◈ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬, ০৯:৫৩ সকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে স্থায়ী হতে বাংলাদেশে ‘হুমকিতে’ থাকার ভুয়া বয়ান: ত্রিপুরায় আটক চট্টগ্রামের হিন্দু দম্পতি

পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দেশ বাংলাদেশে হিন্দুরা ‘নির্যাতিত বা হুমকিতে’ রয়েছে—এমন একটি সাজানো কল্পকাহিনী ফাঁদার অপচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছে ভারতের ত্রিপুরা পুলিশ। বৈধ কোনো কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ত্রিপুরার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা থেকে চট্টগ্রামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে‌ বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজারের দেবদারু এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এই অনুপ্রবেশকারীদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা শান্তনু দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রী।

ত্রিপুরা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাসে করে ভারতের অভ্যন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবদারু এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে শান্তনু ও তাঁর স্ত্রীর গতিবিধি ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তাঁরা ভারতে প্রবেশের কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শান্তনু দেবনাথ স্বীকার করেন যে, তাঁরা গোমতী জেলার শিলাছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভারতীয় পুলিশ ও আদালতের সহানুভূতি পেতে এবং ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চক্রান্ত হিসেবে তিনি এক চতুর অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। শান্তনু দাবি করেন, বাংলাদেশে নাকি তাঁরা ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছিলেন এবং সেই ‘হুমকি’ থেকে বাঁচতেই তাঁরা ভারতে এসে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অনুপ্রবেশের নেপথ্য কারণ হিসেবে ‘হুমকির’ বানোয়াট গল্প শোনালেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শান্তনু প্রকাশ করে ফেলেন যে, এটি ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা। তিনি জানান, অতীতে কলেজের একটি ট্যুরের সময় তিনি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্ত এলাকা ঘুরে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি ওই দুর্গম এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার রুটের সন্ধান পান। সেই পুরোনো অভিজ্ঞতা ও ছককে কাজে লাগিয়েই সুযোগ বুঝে তিনি সস্ত্রীক সীমান্ত পাড়ি দেন।

গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালিয়ে এই দম্পতির ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং দুটি বাংলাদেশি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এই অবৈধ অনুপ্রবেশের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত বা কোনো দালাল চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভুয়া অজুহাত তুলে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।

সূত্র: ইনকিলাব 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়