শিরোনাম
◈ ইয়াবা পাচারে বদলেছে রুট, বাড়ছে রেল-নৌ ও পাহাড়ি পথের ব্যবহার ◈ বিদেশিবিরোধী উত্তেজনায় আতঙ্কিত দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসীরা ◈ আর্মব্যান্ড ছাড়াই হামজা নেতা: থমাস ডুলি ◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬, ০৭:৪৬ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৫ বছরের বিচ্ছিন্নতা কাটাতে ভারত গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গিয়েছেন। আজ শনিবার রাজধানী নেইপিদো থেকে ৫ দিনের সফরে ভারতে গিয়েছেন তিনি।

এবারের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের।

ভারতের মিজোরাম, মণিপুর, অরুণাচল এবং নাগাল্যান্ড— এই ৫টি রাজ্যের সঙ্গে মোট ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে মিয়ানমারের। একসময় ভারতের সঙ্গে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও ভালো ছিল; কিন্তু ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর সেই সম্পর্কে ছেদ পড়ে। মিয়ানমারের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

ক্ষমতা দখলের প্রায় ৫ বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে সামরিক বাহিনী। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হন মিন অঙ হ্লেইং। গত ১০ এপ্রিল মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

advertisement

মিয়ানমার বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কার্যত ‘একঘরে’ অবস্থায় আছে মিয়ানমার। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে তো বটেই, এমনকি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গেও সম্পর্কও তলানিতে ঠেকেছে।

এর প্রধান কারণ মিয়ানমারের গণতন্ত্রহীনতা এবং অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশটির সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে সেনবাহিনী অবর্ণনীয় নির্যাতন। অং সান সু চিসহ এনএলডির হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক-এমপি অভ্যুত্থানের পর গত ৫ বছর ধরে কারাবন্দি আছেন। তাদের মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থিরা যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে সামরিক বাহিনী। গত ৫ বছরে কয়েক হাজার গণতন্ত্রপন্থি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন সেনাসদস্যদের গুলিতে।

সামরিক বাহিনীর ব্যাপক সহিংসতার জন্য আসিয়ান জোটের বৈঠকে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং তাদের মিত্র এশীয় দেশগুলোর দরজাও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য বন্ধ। সু চিকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পরপরই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ আছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হোর্সি রয়টার্সকে বলেছেন, “সামরিক উর্দি ছেড়ে বেসামরিক পোষাক পরার পর থেকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ভারত সফরের মাধ্যমে ২’টি উদ্দেশ্য পূরণ করতে চান তিনি- (১) ভারতের সঙ্গে নতুনভাবে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং (২) ভারতের সঙ্গে মিত্রতাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ভারত সফর যদি সফল হয়, তাহলে আসিয়ান জোটের দেশুগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজটিতে অনেকখানি অগ্রগতি হবে।”

সূত্র : রয়টার্স

  • সর্বশেষ