ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের ভোট গণনা সকাল ৮টায় শুরু হচ্ছে। এজন্য ৭৭টি গণনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরুতে পোস্টাল ব্যালট গোনা হবে। তারপরে শুরু হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট গণনা। প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে ১০০ মিটার এলাকায় কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। গণনা কক্ষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেশ কয়েক দফায় তল্লাশির পরই গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে। গণনা চলাকালীন কেন্দ্রের ভিতর সিসিটিভির পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে, রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত ভবানীপুর আসনের গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলেও করা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৯৩ আসনের ভোট গণনায় সাহায্য করতে নির্বাচন কমিশন ৪ শতাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। সবচেয়ে বেশি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ৩৩ বিধানসভার আসনে ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন।
কোন দল জিতছে। কারা বসতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে- তা সবই স্পষ্ট হবে ভোট গণনার পর। তবে রাজ্যবাসী কার হাতে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার তুলে দিলেন তার একটা প্রাথমিক ধারণা স্থানীয় সময় আজ দুপুর ১টার মধ্যেই মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও অতীতের ইতিহাস বলছে কিছু কিছু কেন্দ্রের গণনা শেষ হতে রাতও গড়িয়ে যেতে পারে। অপরদিকে, ভোটের পর বুথ ফেরত সমীক্ষাও সামনে এসেছে। একাধিক সমীক্ষাতে বিজেপির সরকার গঠনের ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে ভারতের নির্বাচনি ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের বুথ ফেরত সমীক্ষা মেলে না। আবার অনেক ক্ষেত্রেই এ ফলাফল হুবহু মিলে যায়। বস্তুত এ বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলো আসলে একটি ইঙ্গিতমাত্র। এই আভাস দেখে আশাহত বা উচ্ছ্বসিত- কোনোটিই হওয়ার কারণ নেই। এদিকে, এ বুথ ফেরত সমীক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চাননি রাজ্যটির বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। তাঁর দাবি ২২৬টির বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করবে। এমনকি মমতার সুরে তাল মিলিয়ে দলের সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ গতকাল দাবি করেছেন, আমাদের সরকার গঠন হয়ে গেছে। দুশর বেশি আসন পাবে এমন কি গতবারের চেয়েও এবারের আসন সংখ্যা বাড়বে। এদিকে ভোট গণনা নিয়ে শাসক দল তৃণমূল প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তৈরি হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। ভোট গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তপ্ত রাজ্যটির উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নোয়াপাড়া এলাকা। শনিবার গভীর রাতে নোয়াপাড়া বিধানসভা আসনের অন্তর্গত গারুলিয়ায় বিজেপি নেতা কুন্দন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। কুন্দন সিংয়ের অভিযোগ দুই অভিযুক্ত আকাশ চৌধুরী এবং আমন চৌধুরী তৃণমূলের আশ্রিত। তারা বাইকে এসে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মূলত তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল দুর্বৃত্তদের। এ ঘটনার পরই স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো হয়। ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে আসে। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনা নিয়েও লেগেছে রাজনীতির রং। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী সরাসরি তৃণমূল নেতা ও জগদ্দল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামকেই দায়ী করেছেন। পাল্টা সোমনাথ শ্যামের দাবি, তারা গুলি ছুড়েছিল কিনা বা এটা পুরোনো কোনো ভিডিও তা খতিয়ে রাখা উচিত। তাছাড়া অর্জুন সিং হারতে চলেছে, আর সেই আশঙ্কা থেকে নানাভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
আবার এ ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বহরমপুর আসনের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তার অভিমত ‘এ অবস্থা আগেও ছিল, এখনো চলছে। রাজনৈতিক নেতারা দল বদল করলেও সেখানে এ হিংসার ঘটনা চলতেই আছে।’
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আজ আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি বিধানসভার নির্বাচনের গণনাও হবে। গণনা শেষে আসামের ১২৬টি, কেরালার ১৪০টি, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি এবং পুদুচেরির ৩০ আসনের ফলাফল জানা যাবে।
ভারতের এ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার পাশাপাশি গোটা ভারতজুড়ে ৫টি বিধানসভার আসনে উপনির্বাচনের ফলাফলও জানা যাবে। এগুলি হলো পন্ডা (গোয়া রাজ্য), বগলকোট ও দেবানগরে সাউথ (কর্ণাটক রাজ্য), করিডাং (নাগাল্যান্ড রাজ্য) এবং ধর্মনগর (ত্রিপুরা রাজ্য)।
তবে গণনা পর্ব এবং তার পর নতুন সরকার গঠন হলেও পশ্চিমবঙ্গে ভোট পর্ব মিটছে না। একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় রাজ্যটির ফলতা বিধানসভায় নতুন করে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, ফলতা বিধানসভা আসনের ২৮৫টি বুথেই ফের ভোট নেওয়া হবে আগামী ২১ মে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। ২৪ মে ওই আসনটির ফলপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।