যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে চলমান টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশপথের সুরক্ষা নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ১০.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি চুক্তির অধীনে ৪৪টি ইউরোফাইটার টাইফুন বিমান কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আঙ্কারা।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। এর ফলে তুর্কি বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, ইউরোফাইটার ক্রয়ের এই সিদ্ধান্ত সেই অভাব পূরণে একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তি তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পশ্চিমা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনছে আঙ্কারা। আগামী মে মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিতব্য 'সাহা এক্সপো ২০২৬'-এ ইউরোফাইটারের একটি পূর্ণ মাপের নমুনা প্রদর্শন করার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই সামরিক আধুনিকায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও অনেক পরিকল্পনা এখনও আলোচনার পর্যায়ে, তবুও আঙ্কারার এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে তারা নিজেদের আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা রূপান্তর আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি কেড়েছে। সম্প্রতি ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ তুর্কি প্রতিরক্ষা জায়ান্ট আসেলসান পরিদর্শন করে তাদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, তুরস্কের এই দ্রুত উন্নতি দেখে তিনি অবাক হয়েছেন এবং ইউরোপের দেশগুলোর তুরস্কের এই মডেল থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
'স্টিল ডোম' ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আসেলসানের প্রধান হালুক গোরগুন জানান, ন্যাটো নেতৃত্ব তুরস্কের এই শিল্প অভিজ্ঞতা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আগ্রহী। বর্তমানে আসেলসান ‘স্টিল ডোম’ নামক একটি সমন্বিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির কাজ করছে, যা তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষাকে একটি শক্তিশালী ঢালের নিচে নিয়ে আসবে।
ইউরোফাইটারের মতো কৌশলগত ক্রয় এবং আসেলসানের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয়ে তুরস্ক কেবল বহিঃশক্তির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে না, বরং বিশ্ব প্রতিরক্ষা মানচিত্রে নিজেদের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।