কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ব্লকেড বা অবরোধ এখন আঞ্চলিক শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান-কেউই নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অন্যদিকে, প্রায় দুই মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের অবরোধ বজায় রেখেছে ইরান, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, নৌ অবরোধের ফলে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক ক্ষতি তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে এবং তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে। ইরান নিশ্চিতভাবেই এর জন্য চড়া মূল্য দিচ্ছে। এই শহরেই আমরা তার প্রমাণ পাচ্ছি; মানুষ আমাদের কাছে তাদের চাকরি হারানো এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কথা বলছেন-ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে তারা তাদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন।
কিন্তু ইরানের নেতারা আত্মসমর্পণ করবেন না। এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা ‘ডিএনএ’-তে আত্মসমর্পণ নেই। তারা বিশ্বাস করেন, তারা এই কষ্ট সয়ে নিতে পারবেন এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই পিছু হটবে। এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে নিবিড় প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বোমা হামলার হুমকি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি এই ঘটনাগুলোকে ‘প্রকৃত আলোচনার’ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী এই সামুদ্রিক করিডোর ‘সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত’ করার বিষয়ে ইরানেরও কিছু প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে এটি স্পষ্ট, ইরান কেবল তাদের নিজস্ব শর্তপূরণ হলেই তা করতে রাজি হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুক্রবারের মধ্যেই শুরু হওয়ার ‘সম্ভাবনা আছে’ বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়। তার আগেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর থেকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। সূত্র : বিবিসি।