হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইহুদি ও ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাতিগত ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে।
মামলাটি গত শুক্রবার (২০ মার্চ) দায়ের করা হয় এবং এতে ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকার আইন-এর টাইটেল ৬ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ক্যাম্পাসে কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বহিরাগতরা ইহুদি ও ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টাস্কফোর্সও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইসরায়েলি বা জায়নিস্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে দখল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষ ও বৈষম্য রোধে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একইসঙ্গে, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সেক্রেটারি রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার রয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হার্ভার্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা থেকে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান পাচ্ছে। আদালতের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন মানতে বাধ্য করা এবং প্রয়োজন হলে সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।
এই মামলা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।