শিরোনাম
◈ কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১২, রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ মহাকাশেও ধাক্কা, নতুন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ◈ রাস্তায় পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে কোলাকুলি, প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ঈদের পর বড় তিন চ্যালেঞ্জের সামনে নতুন সরকার ◈ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রিয় দেশকে এগিয়ে নিতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ নতুন করে ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়েছে ইরান ◈ যুদ্ধ, ভিসা জটিলতা ও ফ্লাইট বাতিল—তিন দিকের চাপে শ্রমবাজার ◈ বিশ্ব পানি দিবস আজ: নিরাপদ পানি পাচ্ছে না দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ ◈ বিশাল সিঙ্কহোলের দাপটে আতঙ্কে তুরস্কের কৃষকরা, বিপর্যস্ত কৃষিজমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার ভয় ◈ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাযায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৩৬ সকাল
আপডেট : ২২ মার্চ, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ খুলতে ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শনিবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সময় নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন। 

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি এই সামুদ্রিক পথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই হামলা শুরু করা হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি থেকে। ট্রাম্পের এই চরম বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ ও চূড়ান্ত সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকির জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরান জানিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো ধরনের আঘাত হানা হলে এর ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। 

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে বলেন যে, মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাবে। এর আগে ইরানের সদ্যপ্রয়াত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি সতর্ক করেছিলেন যে, দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যাবে।

এদিকে পাল্টাপাল্টি এই হুমকির মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের অন্তত দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। 

আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ইরানি আক্রমণের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের কোনো বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ শুরু করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতি ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামের কারণে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়, তবে তা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে। এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন কেবল ধ্বংসাত্মক সংঘাতের প্রহর গুনছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়