শিরোনাম
◈ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বিরোধে বাংলাদেশকে কেন সমর্থন দিচ্ছে পাকিস্তান? ◈ ২০২৯ সা‌লের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী ব্রাজিল ◈ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ: অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে নির্বাচনি প্রচার ◈ জামায়াত হিন্দুদের জামাই আদরে রাখবে, একটা হিন্দুরও ভারতে যাওয়া লাগবে না : জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী (ভিডিও) ◈ মার্চে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  ◈ বিশ্বকাপ থে‌কে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া ক্রিকেটের জন্য বাজে দৃষ্টান্ত : এ‌বি ডি ভিলিয়ার্স ◈ ভোলা এলএনজির বিকল্প প্রস্তাব, সাশ্রয় হবে ৯ হাজার কোটি ◈ পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে হাইকোর্টের হুঁশিয়ারি ◈ যুক্তরাজ্যে অতিদারিদ্রের সংখ্যা ৬৮ লাখ, ৫৩ শতাংশ বাংলাদেশি ◈ ভুয়া তথ্যে কানাডার ভিসার আবেদন: বস্তায় ভরে ৬০০ বাংলাদেশির পাসপোর্ট ফেরত

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৬ সকাল
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘পিংলু খাল’ চালু করতে যাচ্ছে চীন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়াতে এবং নিজেদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোর অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত ‘পিংলু খাল’ উদ্বোধন করতে যাচ্ছে চীন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বিশাল এই নৌপথটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হতে পারে।

প্রকল্পের বিস্তারিত: ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি চীনের গুয়াংশি অঞ্চলের নাননিং শহরকে সরাসরি দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূলে অবস্থিত কিনঝু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করবে। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর এটিই চীনের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম আধুনিক খাল প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার মাটি ও পাথর অপসারণ করা হয়েছে, যা চীনের বিখ্যাত ‘থ্রি জর্জেস ড্যাম’ নির্মাণের জন্য খনন করা মাটির চেয়েও তিনগুণ বেশি।

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব: বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে পণ্য সমুদ্রে পাঠাতে হলে গুয়াংজু বন্দর হয়ে যেতে হয়। পিংলু খাল চালু হলে সমুদ্রের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার কমে আসবে। এতে প্রতি বছর পরিবহন খাতে চীনের প্রায় ৫.২ বিলিয়ন ইউয়ান (৭২৫ মিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় হবে। এই খালের মাধ্যমে ভিয়েতনামের মতো আসিয়ান (ASEAN) ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সরাসরি নৌ-যোগাযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে আসিয়ান চীনের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এই খালটি সেই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া এটি চীনের তুলনামূলক কম উন্নত অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোর (যেমন: গুয়াংশি, ইউনান, গুইঝু) শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে এই প্রকল্প মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক: বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল প্রকল্প চীনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে পরিবেশবাদীরা সতর্ক করেছেন যে, এই খনন কার্যের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বিশাল অংকের এই বিনিয়োগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

পিংলু খাল নির্মাণের মাধ্যমে চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে নিজের প্রভাব আরও পাকাপোক্ত করতে চাইছে। এটি কেবল একটি নৌপথ নয়, বরং বেইজিংয়ের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক বড় প্রতিফলন। সূত্র: এসসিএমপি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়