ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগের নতুন যুগ সূচনা করলেও, এর দ্রুত সম্প্রসারণ এখন বিজ্ঞানীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার এ বিষয়ে চীনও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। স্টারলিংকের উপগ্রহলোর দ্রুত সম্প্রসারণ ‘প্রকাশিত নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ উপস্থাপন করেছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনই একাধিক স্টারলিংক স্যাটেলাইট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করছে, যা মহাকাশে আবর্জনার শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া বা ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের (এলইও) স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযান মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সোমবার রাশিয়ার উদ্যোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বেইজিংয়ের প্রতিনিধি বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালে স্টারলিংক উপগ্রহ এবং চীনা মহাকাশ স্টেশনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এবং ডিসেম্বরে ভেঙে পড়া একটি উপগ্রহ।
প্রতিনিধি বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং আইন অবজ্ঞা করে এভাবে অসংখ্য স্যাটেলাইট পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানোর জন্য স্টারলিংকের সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, এসব স্যাটেলাইট সামরিক নজরদারিতে এবং সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দ্বারাও ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে এটিও লক্ষ্য করা জরুরি যে, বাণিজ্যিক মহাকাশ কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে, কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে একটি নির্দিষ্ট দেশের দ্বারা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের লাগামহীন বিস্তার স্পষ্ট নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে।’
স্টারলিংকের একজন সিনিয়র নির্বাহী বলেছেন যে, তাদর প্রতিষ্ঠানের একটি উপগ্রহ এবং একটি নতুন উৎক্ষেপিত চীনা উপগ্রহের মধ্যে ভুল করে সংঘর্ষ হয়েছে। তিনি এর জন্য চীনা পক্ষ অন্যান্য উপগ্রহের সাথে সমন্বয় করেনি বলে অভিযোগ করেছেন।
‘সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, মানবতা মহাকাশ অনুসন্ধান এবং ব্যবহারে নতুন অগ্রগতি করেছে,’ চীনা প্রতিনিধি বলেছেন। বেইজিংয়ের জাতিসংঘ মিশন তার এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে তবে ওই প্রতিনিধির নাম প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: এসসিএমপি।