চলতি মাসে আগামী ৩ জানুয়ারি আকাশে দেখা যাবে পূর্ণ উলফ সুপারমুন, যা চাঁদের অন্যতম উজ্জ্বল দৃশ্যগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। বিশেষ কয়েকটি মহাজাগতিক ঘটনার সমাপতনে এদিন চাঁদ স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও বেশি উজ্জ্বল দেখাবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
পূর্ণিমার সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে থাকে, তখন তাকে সুপারমুন বলা হয়। এই নিকটবর্তী অবস্থানকে বলা হয় পেরিজি। ৩ জানুয়ারি চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৩১২ কিলোমিটার দূরে থাকবে। এর ফলে চাঁদ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল মনে হবে।
যদিও এই দূরত্ব ডিসেম্বর ২০২৫-এর পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় সামান্য বেশি, তবে এবারের উজ্জ্বলতা আরও বাড়বে অন্য একটি কারণে। এ বছরের উলফ সুপারমুন পৃথিবীর পেরিহেলিয়নের খুব কাছাকাছি সময়ে ঘটছে। পেরিহেলিয়ন হলো সেই সময়, যখন পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। সাধারণত জানুয়ারির শুরুতে এই ঘটনা ঘটে।
পেরিহেলিয়নের সময় পৃথিবী সূর্যের গড় দূরত্বের তুলনায় প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেশি কাছে থাকে। ফলে সূর্যের আলো কিছুটা বেশি পরিমাণে পৃথিবী ও চাঁদের ওপর পড়ে, যার প্রভাব পড়ে চাঁদের উজ্জ্বলতায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় আকাশ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ থাকে। তাই উত্তর গোলার্ধে ৩ জানুয়ারি রাতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খালি চোখেই চাঁদের এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হবে না।
চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয় বরং ডিম্বাকৃতির হওয়ায় এটি কখনো পৃথিবীর কাছাকাছি, কখনো দূরে অবস্থান করে। গড়ে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। বছরে প্রায় ১৩ বার চাঁদ পেরিজিতে পৌঁছালেও, পেরিজির সময় পূর্ণিমা বা অমাবস্যা হলে তবেই সেটিকে সুপারমুন বলা হয়।
জানুয়ারির পূর্ণিমার চাঁদকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘উলফ মুন’ বলা হয়। এবছর এই উলফ মুন একসঙ্গে পেরিজি ও পেরিহেলিয়নের কাছাকাছি সময়ে ঘটায় এটি হয়ে উঠছে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের আগে আর কোনো পূর্ণ সুপারমুন দেখা যাবে না। ফলে জানুয়ারির এই উলফ সুপারমুন দেখার সুযোগটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সূত্র : Science Alert