বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে ধান কাটার ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও করায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর বাবাকেও মারধর করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালমেঘা ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজন হলেন মো. রবিউল (বাকপ্রতিবন্ধী) ও তাঁর বাবা সিদ্দিক খান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত রবিউলের বাবা সিদ্দিক খান বলেন, তাঁদের বাড়ির সামনে থাকা একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মালিক তাঁর মা সুফিয়া। তবে চাচাতো ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলে রেখে তাঁদের বঞ্চিত করে আসছেন। সম্প্রতি জমির কাগজপত্র যাচাই করে জানা যায়, জমিটি তাঁদের নানার নামে ছিল। এ বিষয়ে তাঁরা উপজেলা ভূমি অফিসে একটি নালিশি মামলা করেছেন। মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও তাঁদের দাবির সত্যতা উঠে এসেছে।
সিদ্দিক খান আরও বলেন, শুক্রবার সকালে তাঁরা দেখতে পান কয়েকজন বহিরাগত লোক তাঁদের জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানাতে পরিবারের সদস্যরা থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় এসে ধান কাটার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে থাকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. লিটন, বাচ্চু ওরফে কালা বাচ্চু, সাগর বিশ্বাসসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ছেলের ওপর হামলা চালায়। ধান কাটার কাচি দিয়ে তাঁর ছেলের পায়ের রগ কাটার চেষ্টা করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব বলেন, মারধরের ঘটনায় দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভাস্কর চন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ধান কাটার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জমি–সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।