শিরোনাম
◈ বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে খর্ব শক্তির দল নয়, স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই‌য়ে নতুন‌দের নেয়া হ‌য়ে‌ছে: নিউজিল্যান্ড কোচ ◈ ক্রিশ্চিয়া‌নো রোনাল‌দো এখ‌নো পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ  ◈ কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড ◈ কুনারে পাকিস্তানের রকেট হামলা, ৯ হাজারের বেশি পরিবার ঘরছাড়া ◈ ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ◈ জ্বালানি অনিশ্চয়তায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছে কারখানাগুলো, সক্ষমতা ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে ◈ ২০৩০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৫% কার্বন কর আরোপ করবে ইইউ ◈ ব্যাংকঋণে শীর্ষে সরকার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার খাতে বাড়বে ভর্তুকি ◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব

প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১৯ রাত
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে তিন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত, সম্পর্কের প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন

চিকেন নেক নামে পরিচিত সিলিগুড়ি করিডোর রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশেই তিনটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত। এর মাধ্যমে পূর্ব সীমান্তের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।

জানা গেছে, আসামের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া এলাকায় এই ঘাঁটিগুলো গড়ে তোলা হয়েছে।

ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দেশটির বৃহত্তর সামরিক পরিকল্পনার অংশ, যার উদ্দেশ্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, কৌশলগত দুর্বলতা রোধ করা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

সিলিগুড়ি করিডোর উত্তরবঙ্গের একটি ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত সরু ভূখণ্ড, যা মূল ভারতের সঙ্গে তার সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যকে সংযুক্ত করে। করিডোরটির চারপাশে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন। ফলে অঞ্চলটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। চীনের সঙ্গে বিনিয়োগে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা। ভারতীয় গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, যা সিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, সিলিগুড়ি করিডোর দুর্বল নয়, বরং এটি ভারতের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা করিডোর’। এই অঞ্চল বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে সুরক্ষিত। নতুন ঘাঁটিগুলো দ্রুত মোতায়েন, লজিস্টিক সহায়তা ও বাস্তবসম্মত গোয়েন্দা সমন্বয় বাড়াবে।

এর আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান মন্তব্য করেছিলেন, চিকেনস নেককে আমি দুর্বল নয়, বরং শক্তিশালী অঞ্চল হিসেবে দেখি, কারণ পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পুরো সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে একসঙ্গে এখানে মোতায়েন করা সম্ভব।

ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কোর (৩৩ কোর) সিলিগুড়ি করিডোরের প্রতিরক্ষা পরিচালনা করে। এই ইউনিট নিয়মিত যুদ্ধাভ্যাস ও লাইভ-ফায়ার মহড়া চালায়, যেখানে টি-৯০ ট্যাঙ্কও ব্যবহার করা হয়।

করিডোরের আকাশপথ রক্ষায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা রাফাল যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন মিগ ভ্যারিয়েন্ট ও ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র রেজিমেন্ট, যা একযোগে আক্রমণ ও প্রতিরোধ দু’ধরনের সক্ষমতা নিশ্চিত করে।

জানা গেছে, এই অঞ্চলে ভারত স্থাপন করেছে তিনটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়া থেকে কেনা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র, ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এমআরএসএএম সিস্টেম ও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র। এই তিন স্তরের প্রতিরক্ষা একে অপরকে পরিপূরকভাবে কভার করে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে সম্ভাব্য আকাশ বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে সক্ষম।

এস-৪০০ সিস্টেমের প্রধান লক্ষ্য হলো চীনসহ যে কোনো বৈরী দেশের বিমান অনুপ্রবেশ রোধ করা। সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ১৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে আকাশ-অ্যাডভান্সড সিস্টেমের দুটি নতুন রেজিমেন্টের জন্য, যেখানে থাকবে উন্নত সিকার প্রযুক্তি ও ৩৬০ ডিগ্রি হামলা প্রতিরোধ ক্ষমতা।

চীনের প্রভাব ও ভারতের নতুন কৌশল

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ঢাকা-ইসলামাবাদ ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

এক সিনিয়র সামরিক পরিকল্পনাবিদ বলেন, ভারত সতর্ক আছে ও সব নতুন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েই পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি না, আমরা প্রতিরক্ষা শক্তি মজবুত করছি। উৎস: জাগোনিউজ২৪

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়