শিরোনাম
◈ ময়মনসিংহ মেডিকেলের ময়লার সঙ্গে ‘কায়দা করে’ পাচার করা হয় সিরিঞ্জ-ক্যানুলা-স্যালাইন, পরে পাইকারি দরে বিক্রি ◈ চার জেলার ২৯ বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়াতে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের, অগ্রাধিকার পাবে গাড়ি ও জ্বালানি খাত ◈ সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চলছে নিরাপত্তা যাচাই ◈ পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা-সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন? ◈ বিশ্বে প্রথমবার মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত, ফ্রান্সে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ বিফ‌লে গে‌লো ইংল‌্যা‌ন্ডের ব্রুকের ডাবল সেঞ্চুরী, ৪২৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়  ◈ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাইতে থানায় রুমিন ফারহানা, ওসির সাথে তুমুল বাগবিতণ্ডা (ভিডিও) ◈ থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০ জন ◈ এবার বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন, বললেন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৫:২৭ বিকাল
আপডেট : ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৬:১৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিপাহ ভাইরাসের রোগ প্রতিরোধে এন্টিবডি মিলেছে মা থেকে সন্তানের শরীরে

নিপাহ ভাইরাস

শাহীন খন্দকার: প্রথমবারের মতো মা থেকে সন্তানের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি বা সম্ভাব্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রবাহের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর, বি)। 

সম্প্রতি ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে আইসিডিডিআর, বির বিজ্ঞানী এবং সহযোগীরা। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গবেষণাটি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, নবজাতক সন্তান মায়ের কাছ থেকে নিপাহ ভাইরাসের হিউমোরাল অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পায়। এই গবেষণা প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তি থেকে অন্যজনে সম্ভাব্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রবাহের নতুন তথ্য প্রদান করা হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার আনুমানিক ৪০ শতাংস থেকে ৭৫শতাংস এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হার ৭১ সতাংশ। এছাড়াও, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে পরবর্তি সময়ে গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং গর্ভবতী নারীদের গভাবস্থার শেষের  দিকে এই জটিলতা আরও খারাপ হয়। 
২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নিপাহ ভাইরাসে ফরিদপুর জেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী একটি মেয়ে এবং তার মা সংক্রমিত হয়। তাদের উভয়েই খেজুরের কাঁচা রস  খেয়েছিল। দুঃখজনক ভাবে, শিশুটি মারা যায় এবং মা গুরুতরস্নায়বিক জটিলতার শিকার হয়।

২০২১ সালের নভেম্বরে ভদ্রমহিলা আবার গর্ভধারণ করেনএবং তিনি প্রসবের পূর্বে জাতীয় নিপাহ সার্ভেইল্যান্স কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সেবাপেয়েছেন। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি একটি সুস্থ ছেলে শিশুর জন্ম দেন। রুটিন সারভাইভার ফলোআপের অংশ হিসেবে নবজাতকের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ভার্টিকেল ট্রান্সমিশন বামা থেকে থেকে শিশুতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাদ দেওয়ার জন্য রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছিল।

যদিও পরীক্ষা করে রেপিড ও পিসিআরটেস্টে নিপাহ সংক্রমণ পাওয়া যায়নি, কিন্তু অ্যান্টি-নিপাহ আইজিজি-র একটি উচ্চ টাইটার দেখতে পাওয়া যায়। এভাবেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মা থেকে সন্তানের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের হিউমোরাল এন্টিবডিপৌঁছে। এই গবেষণার প্রধান গবেষক আইসিডিডিআর,বি-র ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের অন্তর্গত ইমার্জিং ইনফেকশন্স শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট এবং ডেপুটি প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ড. সৈয়দ মইনুদ্দীন সাত্তার বলেন, আমাদের জানা মতে, এই গবেষণাই প্রথম নিপাহ ভাইরাসভিত্তিক ইমিউনপ্রপার্টিজেরভার্টিকেল ট্রান্সফার বা মাথেকে শিশুতে পরিবাহিত হবার প্রমান নিশ্চিত করে। ভাইরাস নিউট্রিলাইজেশনের কার্যকারিতা এবং নবজাতকের সুরক্ষার সম্ভাব্যতার বিষয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। এটি নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে গর্ভবতী ও কম বয়সী নারীদের জন্য টিকা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি রেফারেন্স হিসেবেও কাজ করবে বলে আমি আশাবাদী।

মানুষকে খেজুরেররস খাওয়া থেকে সতর্ক করতে, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরিন বলেন, সম্প্রতি আমরা মানুষের মধ্যে আবারও খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করছি এবং তা সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার প্রয়াস দেখছি।। এটি যে কি ধরণের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে তা না জেনেই মানুষ  খেজুরের কাঁচা রস খাচ্ছে। আমরা সবাইকে খেজুরের কাঁচারস পান করতে নিষেধ করছি, রস সংগ্রহে যত সতর্কতাই অবলম্বন করা হয়ে থাকুক এটি অনিরাপদ।

পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ, আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর, বি-র তত্বাবধায়নে জাতীয় নিপাহ সার্ভেইল্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, আইসিডিডিআর, বি বাংলাদেশ সরকারের সাথে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সনাক্তকরণ, রোগের সংক্রমণের ধরণ এবং মারাত্মক সংক্রমণের বিরুদ্ধে থেরাপিউটিকস এবং ভ্যাকসিন তৈরিতে নতুন তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহে বিশ্বের দীর্ঘতম নিপাহ ভাইরাস সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি সফল  প্রচেষ্টা এবং আমি আশা করি আমরা শীঘ্রই নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাবের করতে পারব যা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে।

নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস (অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়) এবং এটি দূষিত খাদ্য অথবা সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। টেরোপাস জেনাসের ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক ধারক এবং বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম এমারজিংমহামারী সৃষ্টিকারী রোগের মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং তখন থেকে এই জনবহুল দেশে প্রায় প্রতি বছরই অনেক মানুষ মারা যায়। চলতি বছর ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, মোট ৩৩১ জন মানুষ নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে যার মধ্যে২৩৬জন মৃত্যু বরণ করেছেন।

এসকেএইচ/এসএ 

  • সর্বশেষ