শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৩ বিকাল
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

থাইরয়েড কী, কেন হয় ও প্রতিকার: জানুন লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

থাইরয়েড মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো বেশ পরিচিত। নিচে থাইরয়েড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. থাইরয়েড কী?: থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো দেখতে একটি ছোট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine Gland)। এই গ্রন্থি থেকে থাইরয়েড হরমোন (টিথ্রি এবং টিফোর) নিসৃত হয়। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া (Metabolism), শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শারীরিক বৃদ্ধিপথ নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইরয়েড গ্রন্থি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে মূলত দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে:

হাইপোথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি যখন পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীর ধীরগতির হয়ে যায়।

হাইপারথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি যখন অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া অতিরিক্ত দ্রুত হয়।

২. থাইরয়েড সমস্যা কেন হয়?: থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এর মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

অটোইমিউন রোগ: শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিতে আক্রমণ করলে এই সমস্যা হয়। যেমন—হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য 'হাশিমোটোস থাইরয়েডিটিস' এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের জন্য 'গ্রেভস ডিজিজ' দায়ী।

আয়োডিনের ঘাটতি: শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে হরমোন তৈরি করতে পারে না এবং গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড (Goiter) হতে পারে।

বংশগত কারণ: পরিবারে বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়দের থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গর্ভাবস্থা: গর্ভকালীন বা প্রসবের পরবর্তী সময়ে অনেক নারীর হরমোনে তারতম্যের কারণে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা: থাইরয়েডের সমস্যা একবার হলে সাধারণত সারাজীবন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এর প্রধান প্রতিকার ও উপায়গুলো হলো:

নিয়মিত ওষুধ সেবন: হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কৃত্রিম থাইরয়েড হরমোন (যেমন- লেভোথাইরক্সিন) খেতে হয়। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমের জন্য হরমোন কমানোর ওষুধ বা প্রয়োজনে রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হয়।

সুষম ও আয়োডিনযুক্ত খাবার: খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন (আয়োডিনযুক্ত লবণ) রাখা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ, ডিম, শাকসবজি এবং ফলমূল নিয়মিত খাওয়া উচিত।

খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা: হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরা বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি এবং সয়াবিন জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাবেন, কারণ এগুলো থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

নিয়মিত পরীক্ষা (TSH Test): চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (যেমন- TSH, Free T3, Free T4) করে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা মনিটর করতে হবে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

সতর্কতা: থাইরয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে (যেমন- হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা লাগা) অবশ্যই একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

 

  • সর্বশেষ