শিরোনাম
◈ ৬৮ বছরে ১৮ বিশ্বকাপ কাভার করা সাংবাদিককে ‘বিশেষ সম্মান’ আ‌র্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির ◈ ১০ হাজার টাকা থাকলেই বিনিয়োগ করা যাবে সরকারি সুকুকে, আবেদন রোববার ◈ তারেক রহমানের চীন সফর: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম ◈ চুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলের ড্রোন হামলা ◈ ‘জনবান্ধব নয়, গরিবের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টিকারী বাজেট: সংসদে রফিকুল ইসলাম খান ◈ আসিয়ান সদস্যপদে মালয়েশিয়ার সমর্থন, তিস্তায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের পাশে বিশ্বব্যাংক, সহায়তা ১১০ কোটি ডলার ◈ দেশের স্বার্থ রক্ষাই আমাদের দায়িত্ব, চীন-মালয়েশিয়া সফরের সব অর্জন জনগণের: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ◈ বিদেশি নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা দিলো মার্কিন দূতাবাস ◈ আমরা সবাই চাই, আমাদের রিলেশন হবে মিউচুয়াল রেসপেক্ট এবং ইকুইটির ভিত্তিতে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৬, ০৯:০৭ রাত
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লক্ষণ প্রকাশের আগেই টাইপ-১ ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে কাজ করবে নতুন ওষুধ

ডায়াবেটিস চিকিৎসায় একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে একটি নতুন আবিষ্কারকে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ শরীরে প্রকাশ পাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারে—এমন একটি নতুন ওষুধ অনুমোদন করেছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা। 

‘টেপ্লিযুমাব’ নামের এই ওষুধটিই বিশ্বের প্রথম চিকিৎসা, যা শরীরে রোগটির বাহ্যিক লক্ষণ দৃশ্যমান হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে কাজ শুরু করে। 

বিশেষজ্ঞরা এই অনুমোদনকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ইনসুলিন আবিষ্কারের পর টাইপ-১ ডায়াবেটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

টাইপ-১ ডায়াবেটিস ও নতুন ওষুধের ভূমিকা

টাইপ-১ ডায়াবেটিস মূলত একটি অটোইমিউন কন্ডিশন বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিলতা। এতে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাই অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। 

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ থাকার জন্য আজীবন নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশন বা পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। 

নতুন অনুমোদিত এই চিকিৎসাটি টাইপ-১ ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময় করতে না পারলেও, এটি রোগের গতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দেয়। ফলে রোগীকে আজীবন ইনসুলিন থেরাপি নেওয়া শুরু করার আগে একটি দীর্ঘ ও মূল্যবান সময় উপহার দেয়, যা আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য এক বড় আশার আলো। 

টেপ্লিযুমাব আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে? 

টেপ্লিযুমাব হলো একটি বিশেষ ইমিউনোথেরাপি ওষুধ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়াকে মডিফাই বা পরিবর্তন করতে পারে। 

প্রচলিত চিকিৎসার মতো এটি কেবল রোগের লক্ষণের উপশম করে না, বরং রোগের মূল কারণের ওপর কাজ করে। ওষুধটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী ‘বিটা কোষ’ ধ্বংস করা থেকে বিরত রাখে। 

ওষুধটি ৮ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা টাইপ-১ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায় বা ‘স্টেজ-২’-এ রয়েছেন। 

এই ধাপে সাধারণত মানুষের শরীরে কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না, তবে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে যে ভেতরে রোগটির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং তারা পূর্ণাঙ্গ টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। 

চিকিৎসা পদ্ধতি ও কার্যকারিতা

টেপ্লিযুমাব ওষুধটি শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে (ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপ) টানা ১৪ দিন প্রতিদিন একবার করে দেওয়া হয়। প্রতিটি সেশনের জন্য অন্তত ৩০ মিনিট সময় লাগে। প্রথম কয়েক দিন ওষুধের ডোজ ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় যাতে রোগীর শরীর এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। 

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এর অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখা গেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টেপ্লিযুমাব গ্রহণ করেছিলেন, তাদের শরীরে লক্ষণযুক্ত টাইপ-১ ডায়াবেটিস দেখা দিতে সাধারণ রোগীদের তুলনায় প্রায় তিন বছর বেশি সময় লেগেছে। 

এই দীর্ঘ বিলম্ব শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য অত্যন্ত অর্থবহ, কারণ এর ফলে তারা ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার দৈনিক ধকল ও জটিলতা ছাড়াই জীবনের বেশ কয়েকটি বছর চমৎকারভাবে অতিবাহিত করতে পারবে। 

কেন এই অনুমোদন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এ যাবৎকাল পর্যন্ত চিকিৎসকেরা কেবল তখনই চিকিৎসা শুরু করতে পারতেন, যখন টাইপ-১ ডায়াবেটিস শরীরে পুরোপুরি জেঁকে বসত। টেপ্লিযুমাব চিকিৎসকদের সেই চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। এখন লক্ষণ প্রকাশের আগেই রোগটিকে ধীর করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ডায়াবেটিসজনিত শারীরিক ও মানসিক কষ্টের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজনীয়তা পিছিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে সার্বক্ষণিক রক্ত পরীক্ষা করার ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে থাকবেন। 

পাশাপাশি, আক্রান্ত পরিবারগুলোও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় পাবে। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ এবং রোগী কল্যাণ সমিতিগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ডায়াবেটিস সেবার এক নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। 

সামনের চ্যালেঞ্জসমূহ 

এই দারুণ সাফল্যের মাঝেও কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে:

স্ক্রিনিংয়ের অভাব: যেহেতু ‘স্টেজ-২’ ডায়াবেটিসে কোনো বাহ্যিক লক্ষণ থাকে না, তাই আক্রান্তদের শনাক্ত করতে বিশেষায়িত রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মতো দেশেই এ ধরনের কোনো দেশব্যাপী নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা কর্মসূচি নেই। ফলে অনেকেই জানেন না যে তারা এই ঝুঁকিতে আছেন। 

সুযোগ তৈরি করা: চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এখন দেশজুড়ে ব্যাপক স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালুর দাবি জানাচ্ছেন যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ এই সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা-ও নতুন টেস্টিং এবং চিকিৎসা পথ তৈরির কাজ করছে যাতে সবার জন্য এই ওষুধের ন্যায়সংগত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়। 

সূত্র: এনডিটিভি 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়