শিরোনাম
◈ ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকা সত্ত্বেও ‘স্বাধীন’ পলাতকরা ◈ উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করে বিশ্বমঞ্চে আবারও চমক সৌদি আরবের ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সংকট ◈ বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তবে শর্ত আছে: শিশির মনির ◈ ‘দেখা করার কথা বলে’ শপিং মলে ডেকে বেনজীরকে ধরিয়ে দেন এমপি বন্ধু ◈ বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন, স্পেনকে রুখে দি‌য়ে ইতিহাস কেপ ভার্দের  ◈ সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা চলতে পারে না, সব অপরাধেরই বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে 

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:২৮ রাত
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জিসিএস লেভেল কী, এটা দিয়ে রোগীর যা বোঝায়

আমাদের মানসিক অবস্থা নির্ভর করে জ্ঞান, চেতনা, প্রজ্ঞা, কর্মক্ষমতা আর বোঝার দক্ষতার ওপর। এসব পরিমাপের অনেকগুলো স্কেল রয়েছে। তার মধ্যে বেশি ব্যবহার হয় জিসিএস (গ্লাসগো কোমা স্কেল) নামে একটা স্কেল।

জিসিএস কী এবং কীভাবে পরিমাণ করা হয়—এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ।

জিসিএস কী
গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) হলো একটা নিউরোলজিক্যাল স্কেল, যার মাধ্যমে কোনো রোগীর কনশাসনেস লেভেল বা চেতনার স্তর পরিমাপ করা হয়।

এই স্কেলের মান ৩ থেকে ১৫ পর্যন্ত হয়। একজন মৃত মানুষের জিসিএস হয় ৩, আর একজন পুরোপুরি সুস্থ মানুষের জিসিএস ১৫। অর্থাৎ জিসিএস যত কম, রোগীর অবস্থা তত মারাত্মক।
যখন একজন মানুষের চেতনার স্তর কমতে থাকে তখন প্রথম স্তরকে বলা হয় লেথারজি। এ স্তরে জিসিএস ১৩ থেকে ১৫ এর মধ্যে থাকে এবং রোগীর মধ্যে ঘুম ঘুম ভাব থাকে। তবে রোগীকে সহজেই ডেকে তোলা যায়।

জিসিএস আরও কমে যখন ৯-১২ এর মধ্যে চলে যায়, তখন এ স্তরকে বলে অবটানডেশন বা স্টুপর। রোগীকে এই স্তরে খুব শক্তিশালী ব্যথা দিলে কিছুটা চেতনা ফিরে পায়।

আর জিসিএস যখন ৮ বা তার নিচে চলে যায় তখন তাকে কোমা বলে। এই স্তরে রোগী এতটাই অবচেতন থাকে যে কোনোভাবেই তাকে জাগানো সম্ভব হয় না।

জিসিএস সাধারণত মাথায় আঘাত, স্ট্রোক, ব্রেন ড্যামেজ, গুরুতর অসুস্থ রোগী, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্ষেত্রে এই স্কোর কাজে লাগানো হয়।

জিসিএস কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ বলেন, গ্লাসগো কোমা স্কেল পরিমাপ করা হয় রোগীর তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে। তা হলো—

১. চোখ খোলার সক্ষমতা (আই ওপেনিং)

২. কথা বলার সক্ষমতা (ভারবাল রেসপন্স)


৩. শরীরের নড়াচড়ার সক্ষমতার ওপর (মোটর রেসপন্স)


মোটর রেসপন্স—যার স্কোর সর্বোচ্চ ৬, এখানে সাধারণত রোগীর অঙ্গসঞ্চালন বা পেশীর কার্যক্ষমতা দেখা হয়। অর্থাৎ রোগী হাত-পা নাড়া চাড়া করতে পারে কি না।

ভারবাল রেসপন্স—যার স্কোর সর্বোচ্চ ৫, এখানে সাধারণত রোগীর কথা বলার দিকটা দেখা হয়। পূর্ণাঙ্গ শব্দ তৈরি থেকে গোঙানির মতো শব্দ তৈরি বা কোনো শব্দ তৈরি করতে পারা না পারার ওপর স্কোর নির্ধারণ করা হয়।

আই ওপেনিং—যার স্কোর সর্বোচ্চ ৪, এখানে চোখের কার্যকারিতা দেখা হয়। রোগী নিজেই চোখ খুলতে পারে নাকি ব্যথা দিলে চোখ খুলে নাকি একেবারেই চোখ খুলতে পারে না এর ওপর ভিত্তি করে স্কোর নির্ধারিত হয়।

জিসিএস মূলত রোগীর অবস্থার একটা পূর্বাভাস। জিসিএস যত কমতে থাকে, রোগীর ভেন্টিলেশন বা কৃত্রিম শ্বাস গ্রহণের ব্যাপারটি তত দরকার হয়ে পড়ে। এমনকি রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, কিডনি ফাংশন, মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আলাদা সাপোর্ট প্রয়োজন হয়ে পরে।

জিসিএস ≠ ৮ হলে অর্থাৎ রোগী কোমাতে গেলে শ্বাসনালীতে সমস্যা এবং অ্যাসপিরেশনের ঝুঁকি বেশি থাকে; ইনটিউবেশন বা শ্বাসনালীতে নল প্রবেশ করিয়ে তখন শ্বাসনালী সুরক্ষার প্রয়োজন হয়।

রোগীর ধারাবাহিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই স্কেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কোরে উন্নতি বা অবনতি হলে মস্তিষ্কের আঘাত বা সংশ্লিষ্ট জটিলতার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। উৎস: ডেইলি স্টার।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়