কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২৮ জুন) রাত ৯টা ৫৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হালকা’ শ্রেণির এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা (অক্ষাংশ ২১.৫৭ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯২.৫৯ ডিগ্রি পূর্ব)। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৩৩৪ কিলোমিটার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। এ সময় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা কম্পন অনুভবের কথা জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জুন মাসেই অন্তত চারবার কেঁপে উঠল দেশ।
এর আগে গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়; যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকা। তার আগে ১২ জুন সিলেট-ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়েছিল। এছাড়া গত ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ মূলত ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের (চ্যুতিরেখা) কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যেই মৃদু কম্পন অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের সরাসরি পূর্বাভাস না হলেও, এগুলো ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনগুলোর সক্রিয় থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।