শিরোনাম
◈ আজ স্বল্প দূরত্বের কিছু যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে: রেলওয়ে ◈ নাশকতাকারীদের ছাড় না দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের দাবি ◈ কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়কের সন্ধান মিলেছে ◈ জনমনে স্বস্তি ফিরে এলেই কারফিউ প্রত্যাহার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ যে কোন সহিংস ঘটনার নিন্দা করে যুক্তরাষ্ট্র: ম্যাথু মিলার ◈ দুষ্কৃতিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধ পুলিশের ◈ ঢাকার বাইরের কারফিউ পরিস্থিতি ◈ দুষ্কৃতকারীরা যেখানেই থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে: আইজিপি ◈ ১৮ থেকে ২০ জুলাই তিন দিনে ৯৯৯-এ সোয়া লাখ ফোন কল ◈ কতজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন, জানতে সময় লাগবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৪, ০৮:০১ রাত
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০২৪, ০৮:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ দরকার

এম মাছুম বিল্লাহ: দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে সৃষ্ট বন্যায় জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৪ জন নিহত হয়েছেন। জলবায়ু পরিতবর্তনের ফলে প্রতিবছর সৃষ্ট এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি রুখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

ব্রহ্মপুত্র ও কোশিসহ তিন দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলোর পানি ব্যাপকমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে দু’কূল ছাপিয়ে ওঠাই এই বন্যার প্রধান কারণ। আর প্রতি বছর এই অঞ্চলে যত বর্ষণ হয়, তার ৯০ শতাংশই ঘটে বর্ষাকালে। ফলে বন্যা বা ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোতে বিরল নয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষণের হার বিপজ্জনক হারে বাড়ছে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে নেপালের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও হড়কা বানে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এক সপ্তাহে।

রাজধানী কাঠমান্ডুর বাসিন্দা রাজকুমার বিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এই বর্ষণ আমাদের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এ বছরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। চলতি বছরের শুরু থেকেই নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়বে প্রাণহানিও।’

মে মাসের শেষ দিক থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়। তারপর জুন এবং চলতি জুলাই মাসে বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলের ব্যাপ্তি আরও বাড়ে। বন্যার শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যের বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬ জন।

এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশা ক্ষীণ। কারণ আসামের প্রধান নদ ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে অনেক অঞ্চলের রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেসব এলাকায় ঠিকমতো ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী পাঠানো যাচ্ছে না।

বিশ্বজুড়ে অতিবিপন্ন বন্যপ্রাণীর একটি হলো একশিঙা গণ্ডার। বর্তমানে একমাত্র ভারতেই এই গণ্ডারের দেখা মেলে। আসামের কাজিরাঙা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ২০০টি একশিঙা গণ্ডারসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। সেই কাজিরাঙা সংরক্ষিত বনেও ঢুকেছে বন্যার পানি।

আসামের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বন্যায় এ পর্যন্ত ৪টি একশিঙা গণ্ডার এবং বেশ কিছু হরিণের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্র ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও। দেশের ৬৪টি জেলার ১৬টিতে ঢুকেছে বন্যার পানি। এসব জেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে পানিবন্দি আছেন অন্তত ২০ লাখ মানুষ।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের। পৃথিবী যত উষ্ণ হচ্ছে, ততই বাড়ছে বায়ু ও সাগরপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। তাতে পানির বাষ্পীভবন বেড়েছে বহুগুণ। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জলীয় বাষ্প শীতল হলে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে, অর্থাৎ তা দীর্ঘসময় জমে থাকে না। কিন্তু, উষ্ণ বাতাস আরও বেশিদিন জলীয় কণা ধরে রাখতে পারে। তাই যখন বর্ষা আসে, তখন বিপুল মেঘের রাশি একসাথে ভেঙে পড়ে কোনো অভাগা অঞ্চলের ওপর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে বর্ষাকালে গড় বৃষ্টিপাত বেড়ে যাবে। জার্মান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের বিজ্ঞানী আনজা কাৎজেনবার্জার এই ব্যাখ্যা দেন। 

ইতোমধ্যেই বর্ষার তাণ্ডব দেখা গেছে, উত্তরপূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ এবং তারপর সম্প্রতি নেপালে।  এই বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আরেকটি বড় কারণ, হিমবাহের নজিরবিহীন গলন। বিজ্ঞানীদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মতো ধনী দেশগুলোও মারাত্মক বন্যার কবলে পড়তে পারে, তাতে হিমশিম খাবে তাদের দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থা।  

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও খরায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিবেশি দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি আরও ব্যাপকহারে বাড়তে পারে।

একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়