মনিরুল ইসলাম: দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এ বছর চলচ্চিত্র পরিচালনায় মেজবাউর রহমান সুমন এবং চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় মাহমুদা চৌধুরী এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
আগামী সোমবার ২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টায় রাজধানীর চ্যানেল আই স্টুডিওতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকবেন।
প্রসঙ্গত, ফজলুল হক ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক হিসেবেও স্মরণীয়। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতে নিয়মিতভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
জানা যায়, অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদুল আলম সাচ্চু পরিচালিত ফজলুল হককে স্মরণ করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘সহযাত্রী ফজলুল হক’-এর প্রদর্শনী হবে। এরপর আলোচনা পর্ব এবং সবশেষে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় মেজবাউর রহমান সুমন এবং চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় মাহমুদা চৌধুরীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এবারের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সম্মাননা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রের ইতিহাস, নির্মাণশৈলী এবং চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার বিকাশে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের কাজ ও অবদান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে, ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক আবদুর রহমানের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
‘হাওয়া’ ও ‘রইদ’খ্যাত নির্মাতা সুমনের অর্জন
মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ দিয়ে দেশ-বিদেশের দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রইদ’ও আলোচনায় এসেছে। চলচ্চিত্রটি আসন্ন ৯৯তম অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মাহমুদা চৌধুরী ১৯৭৮ সালে সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকায় কাজের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে দীর্ঘদিন ‘বিচিত্রা’য় কাজ করেন এবং দৈনিক দিনকালে যোগ দেন। চলচ্চিত্র ও সমাজবিষয়ক গবেষণায়ও তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘জহির রায়হানের চলচ্চিত্র: সমাজ ভাবনা’ এবং ‘নারী: অর্ধেক পৃথিবী’।