মনিরুল ইসলাম : দেশের টেলিভিশন ও ডিজিটাল নাট্যাঙ্গন ক্রমেই একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কবলে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন নির্মাতা ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নাটকের শুটিং শিডিউল পেতে নির্মাতাদের অনেক সময় শিল্পীদের ‘বাজার’ করতে হচ্ছে, যা সৃজনশীলতার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ জানান, নাট্যশিল্পে কিছু নির্দিষ্ট শিল্পী ও ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, তাদের বাইরে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। “আপনি যদি নির্দিষ্ট কয়েকজন শিল্পীকে কাস্ট না করেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজনা এগোয় না। আবার তাদের শিডিউল পেতে নানা রকম সমন্বয়, অনুরোধ—কখনো কখনো অনৈতিক চাপও নিতে হয়,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নতুন ও মেধাবী শিল্পীরা সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে নাটকের বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে এবং একই ধরনের কাস্টিং বারবার দর্শকের সামনে আসছে। “দর্শক এখন নতুন মুখ দেখতে চায়, নতুন গল্প চায়। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে না,”—যোগ করেন এই নির্মাতা।
নির্মাতার দাবি, প্রযোজনা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে। জনপ্রিয় শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্ধারণে স্বচ্ছতা না থাকায় বাজেটের বড় অংশ তাদের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে, যা ছোট প্রযোজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাধান হিসেবে তিনি একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন। শিল্পীদের শিডিউল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা, পারিশ্রমিকের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণ এবং নতুন শিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট কোটার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
নাট্যাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। এতে একদিকে যেমন সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে দর্শকের আগ্রহও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।