মনিরুল ইসলাম : ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এখন এফডিসি প্রাঙ্গণ সরগরম। প্রার্থীদের ব্যস্ততা, সমর্থকদের আনাগোনা এবং নানামুখী প্রচারণায় পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছে এক রাজনৈতিক আবহের সাংস্কৃতিক মঞ্চে।
জানা গেছে, শিল্পী সমিতির সদস্য সংখ্যা ৬১০ জন হলেও ভোটার হয়েছেন ৫৭৩ জন। নির্বাচনি তফশীল অনুসারে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে ২০ জুন এবং মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে ২২ জুন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে পরদিনই, অর্থাৎ ২৩ জনু। এদিনই খসড়া প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ হয়ে যাবে। মনোনয়নের বিষয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে সেটা নিষ্পত্তি করার সময় দেওয়া হয়েছে ২৪ জুন। কেউ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে চাইলে সেটা করতে পারবেন ২৫ জুন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বিএফডিসির এক নাম্বার ফ্লোরে।
এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। প্যানেল দুটি হলো - আরমান-মুক্তি ও শিবা শানু-জয় চৌধুরী। এছাড়া ১১ জন শিল্পী নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে ইতোমধ্যেই ভোট চাইতে শুরু করেছেন। প্যানেলবদ্ধ শিল্পীরাও হন্যে হয়ে ভোট সন্ধান করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিজেদের পক্ষে সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।
আজ শনিবার দুপুরে শিবাসানু ও জয় চৌধুরী নেতৃত্ব প্যানেলের সদস্য প্রার্থীরা একসাথে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন প্যানেলের মধ্যে কৌশলগত প্রচারণা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা এখন তুঙ্গে। অভিজ্ঞ ও নবীন শিল্পীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে নানা সমীকরণ, যা নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিল্পীদের অধিকার, কল্যাণ এবং শিল্পের উন্নয়ন—সবকিছুই নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচন শুধু একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি শিল্পীদের আবেগ, প্রত্যাশা এবং ঐক্যের এক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।