বিনোদন ডেস্ক : সত্যম শিবম সুন্দরম’, ‘কুরবানি’, ‘ডন’ এবং ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’-এর মতো কালজয়ী ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন জিনাত আমান। বিশেষ করে নারী চরিত্রের প্রচলিত ধারণা ভেঙে সাহসী ও স্বাধীনচেতা চরিত্রকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।
অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিনাত জানান, অধিকাংশ মানুষ তাঁর আরেকটি নাম সম্পর্কে জানেন না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘বাবার দিক থেকে আমার নাম জিনাত আমান, কিন্তু মায়ের দেওয়া নাম ললিতেশ্বরী। আমার মা বর্ধিনী ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ হিন্দু মহিলা। তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে পূজা করতেন এবং আমি মূলত তাঁর সান্নিধ্যেই বড় হয়েছি।--- হিন্দুস্তানটাইমস
ধর্ম নিয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন জিনাত। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে ধর্মীয় মানুষ বলে মনে করি না। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। আমার মা ছিলেন হিন্দু, বাবা মুসলিম। আমি ক্যাথলিক স্কুলে পড়েছি এবং আমার সৎ বাবা ছিলেন জার্মান। ফলে পৃথিবীকে দেখার সুযোগ পেয়েছি অনেক বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।
অভিনেত্রীর মতে, মানবিক মূল্যবোধই জীবনের সবচেয়ে বড় ধর্ম। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম অনুসরণ করার প্রয়োজন অনুভব করিনি। সব ধর্মই মানুষকে ভালো কাজের শিক্ষা দেয়। আমি মানবতা, দয়া, শান্তি, সমতা এবং মানুষ ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি। এটাই আমার কাছে ধর্ম।
একসময় বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জিনাত আমান। ধর্মেন্দ্র, শশী কাপুর এবং ঋষি কাপুরের মতো তারকাদের সঙ্গে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র নির্বাচনের সাহসিকতা বলিউডের নায়িকাদের উপস্থাপনার ধরণ বদলে দিয়েছিল। আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁকে একজন পথপ্রদর্শক শিল্পী হিসেবেই দেখা হয়।