‘আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না। মমতা আমার প্রায় হাতে–পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই আমি পদত্যাগ করি।’
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন দীর্ঘদিন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওপার বাংলার সংগীতশিল্পী কবীর সুমন।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম আজতক বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
যদিও ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের জাদবপুর থেকে তৃণমুলের মনোনয়নে লোকসভা নির্বাচন করে তিনি সংসদ সদস্য হন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কবীর সুমনের এ মন্তব্য তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনো পার্টির সদস্যও ছিলাম না।’
ভোটের ফল নিয়ে কবীর সুমনের ভাষ্য, ‘যেভাবে ভোটটা হলো, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে ট্যাংক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না।’
মমতার শাসনের সমালোচনা করে এই গায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর, না। তিনি পারেননি।’
তবে নির্বাচনে নিজের ভোট তিনি তৃণমূলেই দিয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন ‘সবুজ সাথী’। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কত বড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।’
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের প্রতি সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সুমন। তার মতে, ‘আমাদের সমাজে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ আছেন… কিন্তু এখনো অনেকেই মুসলমানদের আলাদা করে দেখেন।’
সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও ইঙ্গিত দেন সুমন। তিনি জানান, এখন ভোট হলে তিনি আবার তৃণমূলকেই ভোট দেবেন। তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোনো কমিউনিস্ট দল সামনে এলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এমনকি তাদের জন্য গান বাঁধার কথাও বলেন কবীর সুমন।
এদিকে সুমনের এই অবস্থান বদল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর এমন বক্তব্যে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।