শিরোনাম
◈ মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই ◈ ‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের (ভিডিও) ◈ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ বন্ধু ইনফান্তিনোর ফোন ধরলেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিফা প্রেসিডেন্টের বিদায় নিশ্চিত? ◈ বিশ্বকা‌পের পর সে‌প্টেম্ব‌রে লড়াইয়ে নাম‌ছে আর্জেন্টিনা, ম্যাচের নতুন সূচি প্রকাশ ◈ দেশের তরুণরা যেন এই স্মৃতির লেখক হয়, আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে চলে গেলাম: ড. ইউনূস ◈ জোকো‌ভি‌চের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ হাজার কোটি টাকা আছে,  জরিমানায় কিছু যায়-আসে না, বল‌লেন‌ টে‌নিস তারকা জ্বেরেব ◈ আইপিএলে খেলার লোভ কর‌তে গি‌য়ে বিপাকে পাকিস্তা‌নের পেসার! নিজের দেশের লিগে খেলা নিয়েই সংশয় ◈ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন, কাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ◈ আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৫৮ দুপুর
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কিনা সেটি ভেবে দেখার আহ্বান জানাই। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আজকের এই দিনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম অপহরণের শিকার  হয়েছিলেন। লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা কিংবা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র জনতা নারী ও শিশু। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, হতাহতদের পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম খুন অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা  শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে। এমন বাস্তবতায়, আজকের ঐতিহাসিক  ‘জুলাই গণ-অভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপরদিকে তাদের সামনে উম্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ। 

সরকারপ্রধান বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। আমি আশা করি,  এই জাদুঘর শুধুমাত্র ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না। এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয় এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী- বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনও দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এইসব ইতিহাস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, এই জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বীর ছাত্র জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষিত থাকবে। যারা এই জাদুঘরে নিজেদের ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র, শিল্পকর্ম জাদুঘরের জন্য প্রদান করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই।’  

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন পর্যায়ক্রমে অবশ্যই প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয় আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য।  সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়... এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। আমি প্রায়শই একটি কথা বলি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভোলেনি একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরও জনগণ ভুলবে না।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়