বিনোদন ডেস্ক: ভারতীয় অ্যাডাল্ট ওয়েব সিরিজ ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পরিচিত মুখ নেহাল ভাদোলিয়া সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই ইন্ডাস্ট্রির পর্দার আড়ালের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকে শুরু করে শ্যুটিং সেটের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি—সব বিষয় নিয়েই খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
নেহাল জানান, তার শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্যে। তার বাবা ছিলেন একজন ড্রাইভার। আর্থিক সংকটের কারণে দশম শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি একটি শাড়ির দোকানে কাজ শুরু করেন। পরে এভিয়েশন সেক্টরে চাকরি করলেও অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। শুরুতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করতে হয় তাকে।
অ্যাডাল্ট কনটেন্টে কাজ করার সময় নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান নেহাল। এক ঘটনায় তিনি বলেন, এক বয়স্ক সহ-অভিনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েন। ওই অভিনেতা মদ্যপান বা আমিষ খাবার খেয়ে সেটে আসায় দুর্গন্ধে কাজ করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, তাকে সেট ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। এছাড়া শ্যুটিং চলাকালে শারীরিক কষ্ট ও শরীরে কালশিটে দাগ পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি।
ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেহাল বলেন, আত্মরক্ষার জন্য তিনি সবসময় ব্যাগে সেফটি পিন রাখতেন। বাসে যাতায়াতের সময় একবার হেনস্তার শিকার হলে সেই পিন ব্যবহার করেই প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজের আগে লিখিত সম্মতি নেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগ করা হয়, যাতে শিল্পীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
নেহাল জানান, গত তিন বছর ধরে তিনি এই ধরনের কাজ থেকে দূরে রয়েছেন। রাজ কুন্দ্রা সংশ্লিষ্ট বিতর্কের পর তিনি আরও সচেতন হয়েছেন। এখন তিনি ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন এবং ভবিষ্যতে বলিউডের মূলধারার সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।