মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪–২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ চলতি মাসের ২৪ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। সমিতির গঠনতন্ত্রের ৮ (চ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নিয়ম রয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমীকরণ। কে কোন প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। আলোচনায় এগিয়ে আছেন ‘চাঁদের আলো’খ্যাত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। তিনি বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য।
ইতোমধ্যেই সমিতির বিভিন্ন আয়োজনে নিজেকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রমাণ করেছেন মুক্তি। তাই আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মুক্তি জানান, জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী তার মা আনোয়ারা বেগমের ইচ্ছা এবং সহকর্মী শিল্পীদের আগ্রহেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ জানতে চাইলে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমার এই অভিনেত্রী বলেন,
“আম্মা আগে শিল্পী সমিতির কমিটিতে ছিলেন। তার ইচ্ছা, তিনি বেঁচে থাকতে আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান। তার স্বপ্ন পূরণ এবং শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার জন্যই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি যারা সমিতি থেকে দূরে সরে গেছেন, তাদের আবার সমিতিমুখী করাও আমার অন্যতম লক্ষ্য। আমি নির্বাচিত হলে সমিতিকে আরও শিল্পীবান্ধব করে গড়ে তুলতে চাই। বিভিন্ন মত ও দলের শিল্পীদের এক ছাতার নিচে আনতে চাই।”
তিনি আরও জানান, কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে গত দেড় বছরে বর্তমান কমিটির সহযোগিতায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আয়োজন, দুই ঈদে সদস্যদের উপহার প্রদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ।
মুক্তি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—শিল্পী সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন, তাদের স্মরণে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ‘স্মৃতির আয়নায় কিংবদন্তির দৃশ্য’ শীর্ষক স্মরণসভা আয়োজন করা। এতে প্রয়াত শিল্পীদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমার এক ফোনে এই আয়োজনে অংশ নিতে আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ। এছাড়াও সোহেল রানা থেকে শুরু করে নবীন-প্রবীণ অনেক শিল্পী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এখন থেকে প্রতি বছর এই আয়োজন করা হবে।”
মুক্তি জানান, নির্বাহী সদস্য হিসেবে তিনি সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সামনে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা সময়মতো প্রকাশ করবেন।
তিনি বলেন, “অনেক আগে থেকেই শিল্পীদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান কমিটির সদস্য হিসেবে সাধারণ সদস্যদের আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে। নবীন ও প্রবীণ অনেকেই চাইছেন আমি যেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করি। তাদের আগ্রহকে সম্মান জানিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আশা করছি, অভিজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী প্যানেল গঠন করতে পারব।”
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন মুক্তি। এরপর ওমর সানীর সঙ্গে ‘চাঁদের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। ‘তুমি আমার চাঁদ, আমি চাঁদেরই আলো’ গানটি আজও তার পরিচয়ের অন্যতম অংশ।
‘লড়াই’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’ ও ‘তুমি আমার স্বামী’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউটিউবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তার কাজ পৌঁছে যাচ্ছে।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকেও অভিনয় করেছেন মুক্তি। এছাড়া তিনি কয়েকটি নাটক প্রযোজনাও করেছেন। ভবিষ্যতে কাজহীন শিল্পীদের জন্য নতুন প্রযোজনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।