শিরোনাম
◈ এক সম‌য়ের তু‌খোড় ফুটবলার আজ বাস কন্ডাক্টর ◈ ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের অনুপস্থিতি ‘দুঃখজনক’: হট্টগোলে ক্ষোভ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ◈ লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম, এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ◈ জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ আমার কমনসেন্স বলে, তিনি নিশ্চয়ই দেশে ফিরে আসবেন: রুমিন ফারহানা (ভিডিও) ◈ হাসিনা দেশে এলে রাজপথে দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ◈ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ শুরু সেপ্টেম্বরে: গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী ◈ যুদ্ধবিরতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন ◈ মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই ◈ ‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:১৩ দুপুর
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, জামায়াত নেতা কারাগারে

সাবেক স্ত্রীকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের জামায়াতের রুকন আবু বক্কর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশি তদন্তে তাকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
পুলিশ গত বছরের ১৫ জুন সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দিয়েছিল ওই বছরের ২৮ নভেম্বর। পুলিশের তদন্তে মূল আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবু বক্করের নাম উঠে এলেও তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এত দিন। গত সোমবার ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করতে এলে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, আসামি আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

যে কারণে খুন
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, জামায়াত কর্মী আবু বকরের আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন। সবশেষ সালেহা বেগম নামের একজন বিয়ে করলেও তা গোপন রেখেছিলেন পরিবারের কাছে।

নিহত সালেহা বেগমেরও আগের স্বামী মারা গেছেন।
নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, একসময় আবু বকর কমলনগর উপজেলার পূর্ব চর মার্টিনের বালির পোলে সালেহা বেগমের বাড়িতে থাকতেন। সেখানে তার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতেন। সালেহার স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তাকে বিয়ে করেন তিনি। সে সময় আবু বকরের গ্রামের বাড়ি কমলনগরের চর কালকিনিতে স্ত্রী ও পরিবার ছিল।

জানা গেছে, সালেহাকে বিয়ে করে টাকা নিয়ে সে টাকা ফেরত না দিয়ে সটকে পড়েছিলেন আবু বক্কর। স্ত্রীকে তালাকও দিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর স্ত্রী সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন আবু বক্কর। এই টাকা দিয়ে জমি কেনার কথা ছিল তার। তবে জমি না কিনে তিনি স্ত্রীর কাছে আরো টাকা দাবি করেন। মূলত ওই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে। সালেহা টাকার জন্য চাপ দিলে তিনি তাকে খুন করার কথা ভাবেন। এ জন্য ৫০ হাজার টাকায় মো. সেলিম নামের একজনকে খুনের প্রস্তাব দেন। চুক্তি অনুযায়ী সেলিম খুন করেন সালেহাকে।

যেভাবে হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগর উপজেলার মতিরহাট–সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর এক দিন আগে ১৫ জুন সালেহাকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কমলনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে গত বছরের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দির পর পুলিশ একাধিবার আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

তবে তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়। এতে বলা হয়, আবু বক্করের কথামতো সেলিম কৌশলে সালেহা বেগমকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে সাভারে বিক্রি করেন। এক বছর আগের সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করে গত সোমবার কারাগারে যান স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক।

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ বলেন, আবু বকর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদে নেই। তবে তিনি অনেক আগে দলটির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়