মনিরুল ইসলাম: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিত্রুম বলেছেন, যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে প্রকৃত অর্থে ডকুমেন্টারি বলা যায় না। তিনি এ ধরনের উপস্থাপনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, বিপ্লবের প্রতীক একজন শহীদের অনুপস্থিতি ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
আজ বুধবার ৫ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, “জাতীয় অনুষ্ঠানে যে ধরনের হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। বিশেষ করে বিদেশি অতিথিদের সামনে এমন পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে।”
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে নানা অসঙ্গতি ছিল, যার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হলেও এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এখন ৮২ বছর বয়সে এসে যদি প্রয়োজন হয়, তবে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের শাসনব্যবস্থা রক্ষায় আবারও লড়াই করতে প্রস্তুত আছি।”
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। “যদি তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরতে হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার,”—যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তাদের কল্যাণে কাজ করা। সেই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান এবং জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের আত্মত্যাগই দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছে। তাই তাদের মর্যাদা রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।