হাবিবুর রহমান, রবি: বিশেষ এক পাখির কলতানে ঘুম ভাঙল। ঘুমচোখে দরজাটা খুলে দিতেই দক্ষিণা হাওয়া হৃদয়ে প্রশান্তি আনল। বাইরে এগুতেই দেখলাম বাড়ির পাশের শিমুল গাছটায় রক্তিম বর্ণে ভরে আছে। তাতে শালিকের আনাগোনা, ভ্রমের গুঞ্জন, কোকিলের কুহুকুহু ডাক। প্রকৃতির এরকম পরিবর্তন মনে করিয়ে দেয় কবির ভাষা- ‘বাতাসে বহিছে প্রেম নয়নে লাগিল নেশা/ কারা যে ডাকিল পিছু বসন্ত এসে গেছে...!’
হ্যাঁ, বসন্ত এসে গেছে”, এমনভাবেই বলছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈম মিম।
কবির ভাষায়- ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’। কিন্তু সত্যি বলতে আজ ফুল ফুটেছে, বসন্ত ঋতুও হাজির হয়েছে। তাকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতি তার সব রুক্ষ, শুষ্কতা দূর করে সতেজ, প্রাণখোলা রূপ ধারণ করেছে। শিমুল, পলাশের সমারোহ, দখিনা হাওয়া, মৌমাছির গুঞ্জরণ, কচি-কিশলয় আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠা জানান দেয় ঋতুরাজ বসন্তের আগমন।
বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসকে অনুভূতিতে সিক্ত করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তুলে ধরেছেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান।
বাসন্তী ভাবনায় মনের বনে ফুল ফুটতে শুরু করেছে কদিন আগে থেকেই। আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শিমুল পলাশের রঙিন আবহে সুন্দরের প্রাচুর্য নিয়ে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে। দখিন হাওয়ার গুঞ্জরণ এই মাত্রা বাড়িয়েছে আরো কয়েক গুণ। শিমুল, পলাশ নাম না জানা কতো ফুলে প্রকৃতি রাঙিয়ে মাতাল হাওয়ায় দোল খেয়ে যায় সবার মনে মনে। এভাবে অনুভূতি ব্যক্ত করে শিক্ষার্থী নাজিয়া হক সূচি।
একে তো ফাগুনের আগুন, তার ওপর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দুটি উৎসব এক হয়ে হৃদয়ে দোলা দিয়েছে খুব বেশি। বসন্তকে বরণ করে নিতে বাঙালি আয়োজন করে মেলা, সার্কাসসহ নানা সমারোহ। আমি ছোটবেলা থেকেই মেলায় যেতাম বাবার সঙ্গে। মেলায় সার্কাস দেখতাম। বাবা আমার পছন্দের টমটম গাড়ি, ঝুড়ি, জিলাপি কিনে দিতেন। সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা মনে পড়ে যায় বলে জানান শিক্ষার্থী লিমন হোসেন।
ঋতুরাজ বসন্তের বর্ণনা কোনো রংতুলির আঁচড়ে শেষ হয় না। কোনো কবি-সাহিত্যিক বসন্তের রূপের বর্ণনায় নিজেকে তৃপ্ত করতে পারেন না। তবুও বসন্ত বন্দনায় প্রকৃতিপ্রেমীদের চেষ্টার যেন অন্ত থাকে না। আমিও সে রকম একজন মানুষ। বসন্তকে পূর্বে আলাদাভাবে পালন করলেও এখন নিজের মতো পালন করি। বসন্ত আমার আবেগের ঋতু। এখনতো ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত একত্রে উদযাপন হয়। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষকগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমেই কাটে আমার পহেলা ফাগুন বলে জানান মোহাম্মদ নাছরুল হক।
এ বছর এখনো প্রকৃতিতে শীতের কিছু আমেজ রয়ে গেছে তবুও আড়মোড়া ভেঙে ধীরে ধীরে নতুন সাজে সেজেছে প্রকৃতি। বাংলার প্রকৃতি, আমাদের ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বড় অংশ দখল করে আছে ঋতুরাজ বসন্ত। তাই বসন্তকে সাদরে বরণ করে সবাই। আমিও ব্যতিক্রম নই। বসন্তের লালচে শিমুল ও পলাশ ফুল আমার মনে সৃষ্টি করে এক অন্যরকম প্রণোদনা। আর এই আমেজে আমাকে আরও অভিভূত করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। বরাবরের মতো এ বছরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের আয়োজনে উদযাপিত হবে বসন্তবরণ। আমিও অংশগ্রহণ করব তাতে। ঋতুরাজকে আরো বেশি কাছ থেকে বরণ করব বলে জানায় আরেক শিক্ষার্থী মিম তাহমিম।
বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগে দোলা। বিপুল তরঙ্গ প্রাণে আন্দোলিত হবে বাঙালি মন। বসন্তবরণে দূর থেকে চেয়ে থাকবার মতো তরুণীটি আজ বেরিয়েছে বাসন্তী শাড়িতে। জমাট খোঁপাটি তার হলুদ গাঁদায় মোড়া। দুই হাত ভর্তি কাচের চুড়ি। কাছে যেতে লাগে না, সাত সমুদ্র তেরো নদীর এপার থেকেও ঝনঝন শব্দ ঠিক বুকে বাজে। তাকে হাত ধরে রাস্তা পার করে হৃদয়পুরের দিকে নিয়ে যাওয়া তরুণের পরনে লাল, অন্য হাতে তার ফুলভর্তি গোটা বাগান। চারদিকে কুহু ডাকে বিভোর করে তোলে বসন্ত কোকিল। এভাে অনুভূতি ব্যক্ত করে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই বসন্তে প্রিয় মানুষগুলো কাছে থাকুক, আরো বেশি ভালোবাসুক, সেই প্রত্যাশাই করি।
প্রতিনিধি/একে