শিরোনাম
◈ ঢাবি ক্যাম্পাসে কে ঢোকে, কে বের হয়—নজর রাখবে এআই ক্যামেরা ◈ বাংলাদেশি সন্দেহে গভীর রাতে মুসলিমদের বাড়িতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিযান ◈ হুথিদের মোকাবিলায় সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি, বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য ◈ ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৫৩ ◈ প্রতিটি অপরাধের পেছনে জুয়া নয়তো মাদকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩২০ ◈ শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ ◈ মক্কায় ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের, সৌদির প্রতি সংহতি ◈ সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের চার্জশিট অনুমোদন ◈ ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি, পাবেন না যারা

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪০ বিকাল
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাবি ক্যাম্পাসে কে ঢোকে, কে বের হয়—নজর রাখবে এআই ক্যামেরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধী শনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কে প্রবেশ করছে, কে বের হচ্ছে- তা আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতেও প্রযুক্তিটি সহায়ক হবে।

advertisement

তবে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন- সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাস্তবায়ন কবে? আর শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই কি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার সমস্যার সমাধান হবে?

প্রযুক্তি আসছে, কিন্তু তার ব্যবহার, তথ্যের নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনা এসব প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে।

advertisement

‘অপরাধী শনাক্তে জটিলতা ছিল’
ঢাবির প্রক্টর চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে কাজ করছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যাম্পাসে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের চেহারাও ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

advertisement

প্রক্টরের ভাষ্য, এর আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজে জড়িত ব্যক্তির চেহারা স্পষ্টভাবে পাওয়া যেত না। ফলে অপরাধী শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হতো। এ কারণেই নতুন প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

‘ভালো উদ্যোগ, কিন্তু এত দেরিতে কেন?’
প্রশাসনের পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উদ্যোগটি নিতে এতসময় লাগল কেন- এ প্রশ্নও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আরিফ বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে জানানো হয়। অভিযোগ বা স্মারকলিপির মাধ্যমেও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। প্রশাসন যখন আগে থেকেই এসব বিষয়ে অবগত, তখন সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি কেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তার ভাষায়, বিভিন্ন ঘটনায় বারবার তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও সেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আরিফের প্রশ্ন, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তবায়ন হবে? আদৌ হবে কি না, নাকি এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমানোর জন্য দেওয়া আরেকটি আশ্বাস- সেটিও এখন দেখার বিষয়।

‘শুধু ক্যামেরা থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না’
এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব ব্যবস্থাপনার ওপর- এমনটাই মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী লিনা।

তিনি বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্যামেরা শনাক্ত করার পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে কি না।

‘এআই ক্যামেরা কীভাবে কাজ করবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআই ক্যামেরা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অনেক সময় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে তাসনিয়ার প্রশ্ন, প্রযুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেক সময় লাগে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয় না। তাই এআই ক্যামেরার কার্যক্রম যেন কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতের কারণে প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা রাখা হবে- এটি গুরুত্বপূর্ণ।

তারমতে, শুধু বহিরাগত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করলেই হবে না, শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার কাছে অ্যালার্ট যাবে এবং কীভাবে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।

তাসনিয়া বলেন, এআই ক্যামেরার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি এর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে প্রযুক্তিটি বাস্তবে কী ভূমিকা রাখবে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

‘সিসিটিভি লাগানোর কথা শুনি, কিন্তু ঘটনার পর ফুটেজ কোথায়?’
ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার জন্য নতুন সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও প্রশাসনের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঢাবির সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নারী হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের স্ক্রিনিংয়ের সময়ও নারী হেনস্তার অভিযোগ এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে টিএসসিতে ছাত্র ইউনিয়নের এক নারী কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মোজাম্মেল হকের প্রশ্ন, কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনকে জানানো হলে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়; কিন্তু অভিযোগগুলোর বিচার আদৌ হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসে যে ধরনের বিচারহীনতার অভিযোগ ছিল, পরবর্তীসময়েও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।

নতুন ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হলেও ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চান, তখন অনেক সময় ক্যামেরা নষ্ট বা ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না- এমন কথা শোনা যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তারমতে, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আদৌ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না।

‘বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান মাহী বলেন, ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তারমতে, বাস্তবায়ন হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়বে এবং এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাহী বলেন, এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে-এটাই এখন প্রত্যাশা।

‘ঢাবির মতো খোলামেলা ক্যাম্পাসে এটি প্রয়োজন’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছোয়া বলেন, ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নারী হেনস্তার ঘটনার প্রেক্ষাপটে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এআই ক্যামেরা স্থাপন অবশ্যই ভালো উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ঢাবির মতো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাধারণ ক্যামেরার তুলনায় এআইভিত্তিক ক্যামেরা হলে তা আরও কার্যকর হতে পারে।

তবে, প্রশাসনের আরও আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

সাধারণ সিসিটিভি-এআই সিসিটিভির পার্থক্য কোথায়?
এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরার তুলনায় কীভাবে আলাদা এবং এটি নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর হতে পারে- এ বিষয়ে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. সাইফুল হক বলেন, সাধারণ সিসিটিভি মূলত ঘটনা রেকর্ড করে। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটার পর তদন্তের প্রয়োজনে সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

অন্যদিকে, এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরাকে পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে পরিচালনা করা গেলে এটি শুধু ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যও বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কতজন মানুষ ছিল- এ ধরনের তথ্যও এআইভিত্তিক ক্যামেরা থেকে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ ক্যামেরা শুধু রেকর্ড সংরক্ষণ না করে সেই রেকর্ড থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা সরবরাহেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে কি না-জানতে চাইলে ড. সাইফুল হক বলেন, দেশে অনেক ধরনের প্রযুক্তি এরই মধ্যে এসেছে এবং ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঢাবি প্রশাসন এআইভিত্তিক ক্যামেরা কীভাবে পরিচালনা করবে এবং এর ডেটা কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

প্রযুক্তির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন
ঢাবি ক্যাম্পাসে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শুধু ফুটেজ খোঁজার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণ ও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে, প্রযুক্তি কোনো সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সেটি সচল রাখা, পর্যাপ্ত কাভারেজ নিশ্চিত করা, ফুটেজ সংরক্ষণ, তথ্যের নিরাপত্তা, কে এসব তথ্য দেখতে পারবেন- এসব বিষয়েও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো ঘটনা ঘটলে ক্যামেরার তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।

কারণ শিক্ষার্থীদের বড় অংশের প্রশ্ন এখন শুধু ‘ক্যামেরা আসবে কি না’-এটি নয়। প্রশ্ন হলো, ক্যামেরা আসার পর সেটি কতটা কার্যকর হবে, কার জবাবদিহির মধ্যে থাকবে এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ সামনে এলে তার ভিত্তিতে আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ তাই একদিকে যেমন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে বাস্তবায়ন, জবাবদিহি, তথ্যের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে আসছে।

শেষ পর্যন্ত এআই ক্যামেরা ঢাবির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি প্রশাসনিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে- তার উত্তর মিলবে বাস্তবায়নের পরই। উৎস: জাগোনিউজ24

  • সর্বশেষ