শিরোনাম
◈ কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে ১০ নভেম্বর তুরস্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান, সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয় ◈ উজানের পানিপ্রবাহ বন্ধ, অপরিকল্পিত সেতু ও খননে মৃতপ্রায় ভৈরব নদ; বাঁচাতে পদ্মার সঙ্গে পুনঃসংযোগের দাবি ◈ ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু, ৩ হাজার ৯৮১ ইউনিয়নের তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির; তফসিল ১০ ডিসেম্বর ◈ যে ৫১ অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন মালয়েশিয়াগামী কর্মীরা, ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ◈ নরসিংদীতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পর্নসাইটে বিক্রির অভিযোগ! ◈ কোস্ট গার্ডের ৪ জাহাজের নাম পরিবর্তন, দায়িত্ব পালনকালে শহীদ ৪ সদস্যের নামে নতুন নামকরণ ◈ খুলনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্রে কালি মাখাল দুর্বৃত্তরা, লিফলেটে ভারত ও রবীন্দ্রবিদ্বেষী বার্তা ◈ টেকনাফের পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান, তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে ◈ মৃত্যুর আগে রহস্যময় ১৫ মিনিটের হিসাব নেই, কী ঘটেছিল তখন তাহসিফের সঙ্গে ◈ ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৩, ০১:২৫ দুপুর
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২৩, ০৬:১০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লোডশেডিং শিগগিরই যাবে না, বেশ কিছুকাল থাকবে: সিপিডি

বিশ্বজিৎ দত্ত: বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ যেসব উদ্যোগ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের উন্নয়নে  নেওয়া হয়েছে, সেগুলো সমস্যার সমাধানে কাজে আসেনি। বরংচ এইসব উদ্যোগের ফলে  ভোক্তাদের বাড়তি ব্যায় করতে হচ্ছে। দেশে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে।  গতকাল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ বিষয়ক আলোচনায় সিপিডি ও বক্তাদের বক্তব্যে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। 

সিপিডির বক্তব্যে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়েনি। লোডশেডিং শিগগিরই যাবে না। আরও বেশ কিছুকাল থাকবে বলেই শঙ্কা। গ্রামে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হলেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

সিপিডির নিবন্ধে বলা হয়, চলমান সংকট থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কোনো শিক্ষা নেয়নি। এটি এখনো ভুল পথে এগোচ্ছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর না দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিনির্ভরতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও দুর্বল করে দিতে পারে। শুধু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ মেনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধান হবে না। এতে শুধু ভর্তুকি সমন্বয়ের নামে ভোক্তার ওপর বাড়তি দাম চাপতে পারে। আইএমএফের পরামর্শের পাশাপাশি আরও অনেক সংস্কার করতে হবে।

এতে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে আগে থেকে যা যা শঙ্কা করা হয়েছিল, তা এখন পরিণতিতে পরিণত হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানি বাজারে পরিণত হয়েছে। এখন ডলারের অভাবে জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না। জ্বালানিসংকটে গত এক বছরে লম্বা সময় ধরে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। লোডশেডিংয়ে ভুগেছেন ভোক্তারা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এখন আর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) যাওয়া লাগছে না। আইন পরিবর্তন করে বিপিসিকে ব্যবসায়ী বানানো হয়েছে। এক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত দেশের অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে। 

তিনি বলেন,‘ রাতারাতি আইন বদলে গেলো। দাম বাড়াতে বিপিসিকে আর বিইআরসিতে আসা লাগলো না। বিপিসি নিজেই ব্যবসায়ী, নিজেই ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে। অর্থাৎ ব্যবসায়ী নিজেই তার পণ্যের দাম নির্ধারণ করে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে, মনোপলি প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। যা দাম নির্ধারণ করেছে, সে দামে আমাদের কিনতে হবে। এত বড় অবিচার ভূ-ভারতে কোথাও আছে জানা নেই। আইন পরিবর্তন করে গণশুনানি তুলে দেওয়া হলে যাতে আমরা বলতে না পারি কত হাজার কোটি টাকা কোথায় চুরি হয়েছে। কোথায় লুটপাট হয়েছে, কীভাবে হয়েছে তা জানতে যেন না পারি সে কারণে।’

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় দেখা গেলো জ্বালানি উন্নয়ন ফান্ডের ৬৫ শতাংশ ব্যয় হয়নি। ৩৫ শতাংশ জ্বালানি কোথায় কীভাবে ব্যয় করেছে সেটা কেউ বলতে পারছে না।

শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিলে টাকা দিয়ে যাচ্ছি। এগুলো না দিলে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমতো। আমাদের টাকার ওপর সুদ নেওয়া হচ্ছে। এইভাবে আমরা ঠকছি।

তিনি বলেন, ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কাছে ১৪ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। তার আগে আইন করে বিদ্যুৎ খাত, জ্বালানি খাত হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। আমরা ফান্ড স্ট্যাবলাইজ ফান্ড করার কথা বলেছি। কিন্তু সেসব কথা শুনেনি। এখন ৮ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়।

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আইপিপিগুলোর কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো পাওনা রয়ে গেছে। জ্বালানি আমদানি করার জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার তার জন্য যে এলসি খোলার দরকার বিপিসির সেটি খোলা যাচ্ছে না। বিপুল পরিমাণ ঋণ করা হচ্ছে কেবল জ্বালানি ব্যয় মেটানোর জন্য। এলএনজি আমদানি, বিদ্যুতে কৃচ্ছ্রনীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সেগুলো প্রকারন্তরে খাতসংশ্লিষ্ট সমস্যা থেকে উত্তরণে খুব বড় ভূমিকা রাখছে না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের জেনারেশন ক্যাপাসিটি রয়েছে ২৭ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে অনগ্রিডে ২৪ হাজার আর অফগ্রিডে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট। এই বড় ক্যাপাসিটিটাই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার পুরোটাই প্রায় আমদানিনির্ভর জ্বালানি। সরকারের নীতির বাইরে কয়লাভিত্তিক জ্বালানির আমদানি বাড়ছে। কয়লার শেয়ার এখন ১১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে যেটা চার বছর আগেও অর্ধেকেরও কম ছিল। সরকার বলেছিল কয়লা থেকে সরে আসতে চায়, ১০টি প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকার সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিল। তা না করে আবার নতুন করে কয়লার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। উপরন্তু আরও প্রায় ছয় হাজার ১০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন পাইপলাইনে রয়েছে। যেগুলো কিন্তু সামনের দিনগুলোতে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা এত বিদ্যুৎ দিয়ে কী করবো। এটি এখন নতুন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এর ব্যবহার আমরা না করতে পারি। এর ফলে যা হবে তা হলো- আমদানি করার জন্য যে ধরনের অর্থনৈতিক সামর্থ্য দরকার সরকারি এজেন্সিগুলোর সেগুলো দেওয়ার মতো সক্ষমতা এখন নেই, আগামী দিনে কীভাবে থাকবে সেটাও দুর্ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ক্যাপাসিটি রয়েছে। বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি পেমেন্টের ধকলে, এটা বহন করা (আনবিয়ারেবল) কষ্টসাধ্য অবস্থায় চলে যাচ্ছি। বাংলাদেশে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) তার ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছে। টোটাল সাবসিডির ২৭ শতাংশ ভর্তুকি সাবসিডি দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎখাতে। যার মূলে রয়েছে এই ক্যাপাসিটি চার্জ। যারজন্য সামাজিক খাতে অর্থ দিতে পারছে না সরকার। ।

তিনি বলেন, একদিকে বিপিসি, পিডিবি বা বিপিডিবি লস করছে। অন্যদিকে তাদের সম্পদ বাড়ছে। আবার লসের অজুহাত দিয়ে ট্যারিফ বাড়িয়ে দিয়ে বাড়তি অর্থ নিচ্ছে। আবার সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিচ্ছে। আমাদের কাছে এই হিসাবটা গোলমেলে মনে হয়েছে। জ্বালানি খাত সমন্বয়ে আইএমএফের শর্তগুলো আমাদের কাছে অপর্যাপ্ত মনে হয়েছে। যেভাবে বিদ্যুৎখাত এখন যেভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেখান থেকে সরকারের সরে আসা জরুরি বলে আমরা মনে করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত চলমান সংকট থেকে সঠিকভাবে শিক্ষা নেয়নি। জ্বালানি বহুমুখীকরণের পরিবর্তে, কয়লার ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। যা সরকারি অবস্থানের বিরুদ্ধে। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে অবহেলা রয়েছে।

সিপিডি মনে করে লোডশেডিং আগামী মাস বা বছর অব্যাহত থাকবে যা পরিবার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিপিসি, বিপিডিবি এবং পেট্রোবাংলার মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব কোথাও স্বচ্ছ নয়।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ইজাজ হোসেন ও প্রফেসর বদরুল ইমাম প্রমুখ। আদানির বিদ্যুৎ, আন্তসীমান্ত সঞ্চালন লাইন, এলএনজি, কয়লাসহ সব মিলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমদানির বাজারে পরিণত হয়েছে। ভোক্তা বাড়তি দাম দিয়েই যাচ্ছে। সেই টাকায় বড় বাজেট হচ্ছে। অথচ বাজেটে ভোক্তার জন্য কিছু নেই। বিদেশি বিনিয়োগ আনার কথা বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়নের নামে কত টাকা পাচার হয়ে গেছে, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে।

ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন,দেশে এখন জ্বালানি আমদানি করতে প্রতিমাসে  ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়ে। আগামীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ মিলিয়ন হবে। কিন্তু দেশের গ্যাস ব্যবহারে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। দেশে জ্বালানির মূল জোগান আসে গ্যাস থেকে। গ্যাস অনুসন্ধান চালিয়ে গেলে বর্তমান সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা করা হয়েছে। প্রতি বছর যদি ৩টি করেও নতুন কুপ খনন করা হতো তবে দেশে জ্বালানির সংকট হতো না। এমন অবহেলার শাস্তি তো পেতেই হবে। আসলে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন গ্যাসসংকট তৈরি করা হয়েছে। এতে এলএনজি আমদানি বাড়তেই থাকবে।

বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, সমস্যা হচ্ছে জ্বালানি খাতে, বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে বিদ্যুৎ খাতে। গত বছর সংকটে পড়ে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। এখন বিশ্ববাজারে কয়লা, এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম কম। তাই সরকার আবার আমদানির দিকেই ঝুঁকছে। জ্বালানির নিশ্চয়তা না নিয়ে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে। এগুলো তো যেকোনো আইনে অবৈধ হওয়ার কথা।

দেশের শীর্ষ বণিক সমিতি এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দ্রুত বিদ্যুৎ দিতে পারায় শিল্পায়ন বেড়েছে। এখন ব্যবসায়ীদের কাছে পরিস্থিতি অন্ধকার, বিদ্যুৎ নেই। জ্বালানি আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে। জ্বালানির প্রাপ্যতা মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ডলারের সংকটে ঠিকমতো ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে না। নগদ টাকা দিয়ে ব্যবসায়ীরাও ঋণপত্র খুলতে পারছেন না।

সিপিডির নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সঞ্চালনাও করেন তিনি। নিবন্ধে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বন্ধ আছে। জ্বালানি আমদানি করা যাচ্ছে না। বিপুল পরিমাণ ঋণ করা হচ্ছে জ্বালানি খরচ মেটাতে। এর মধ্যে কয়লানির্ভরতা বাড়ছে। এটি আমদানি খরচ আরও বাড়াবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন ৪০ শতাংশ বাড়তি আছে। আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এত বাড়তি সক্ষমতা দিয়ে কী করা হবে?

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) লোকসানের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করছে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়ায় পিডিবির খরচ হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পরের বছর (২০২১-২২) এটি প্রায় ৮২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এটি ২৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে এটি বাড়তেই থাকবে। ২০২৫ সালে অতিরিক্ত সক্ষমতা ৪৬ শতাংশ হবে। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া কমানোয় জোর দেওয়া উচিত।

সিপিডির নিবন্ধে বলা হয়, শুল্ক ও কর বাবদ বিপিসি সরকারি কোষাগারে টাকা দিচ্ছে। আবার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প নিচ্ছে। অথচ লোকসানের কথা বলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াচ্ছে। এসব হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। দাম বাড়িয়ে বিপিসি মুনাফা করেছে। কিন্তু তা দিয়ে তো জ্বালানি তেল আমদানি করা যাচ্ছে না। আমদানির জন্য ডলার লাগবে। সামনে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে বাড়তে পারে। উচ্চমূল্যে কত দিন জ্বালানি কেনা সম্ভব হবে? গ্যাসঘাটতি উত্তরোত্তর বাড়ছে। এলএনজি আমদানি করে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মানে জ্বালানি আমদানি খরচের বড় অংশ যাবে এলএনজি খাতে।

বিডি/এসবি২

  • সর্বশেষ