শিরোনাম
◈ সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় তেলপথ সুরক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ ◈ রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম চালান আসেনি, এয়ার স্পেস ক্লিয়ার না থাকায় কার্গো বিমান বাতিল ◈ আগামী অক্টোবর মাসে আসছে টানা ৭ দিনের ছুটি, কারা পাবেন এই সুযোগ! ◈ ৫ বছরেও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি জকিগঞ্জের গ্যাস, নতুন ২ কূপ খননে ৩১৫ কোটি টাকার উদ্যোগ ◈ নারী হ‌কি‌তে কাজাখস্তানের সঙ্গে ৩-৩ ড্র, এশিয়ান গেমসে প্রথম পয়েন্ট বাংলাদেশের ◈ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গুতেরেসের অভিনন্দন, বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণে বাংলাদেশের রূপরেখা উপস্থাপন ◈ জাতিসংঘে ভাষণে ‌ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০টি মিথ্যা ব‌লে‌ছেন: দ্য গার্ডিয়ান ◈ ইরান-যুদ্ধের সময় আ‌মে‌রিকার যুদ্ধ জাহাজ আব্রাহাম লিংক‌নের ৮ নাবিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে: মার্কিন নৌবাহিনী ◈ জাতিসংঘে একই পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণ, বিরল ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান ◈ শেষ মুহূর্তে গ্যাকপোর গোলে জার্মানিকে রুখে দি‌লো নেদারল্যান্ডস

প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ দুপুর
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৫ বছরেও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি জকিগঞ্জের গ্যাস, নতুন ২ কূপ খননে ৩১৫ কোটি টাকার উদ্যোগ

বর্তমানে জকিগঞ্জ-১ কূপ থেকে দৈনিক ১০-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে

২০২১ সালের ৯ আগস্ট জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসে দেশের ২৮তম গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেন পতিত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। আবিষ্কারের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেখানকার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায়নি। প্রায় ৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ না হওয়ায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকা গ্যাসও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন

বর্তমানে জকিগঞ্জ-১ কূপ থেকে দৈনিক ১০-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে একটি মাত্র কূপের গ্যাস দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় ক্ষেত্রটির উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে আরো দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

বাপেক্সের হিসাবে জকিগঞ্জে ৫২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। আর গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কারের সময় সেখানকার গ্যাস মজুদের হিসাব ধরা হয় ৬৮ বিলিয়ন ঘনফুট। ২০২১ সালে বাজারদর হিসাবে এ গ্যাসের মূল্য ধরা হয় ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। এ গ্যাসের হিসাব ধরা হয় প্রতি হাজার ঘনফুটের দাম ৩ ডলার হিসাব করে। বর্তমান বাজারমূল্য ও এলএনজির দাম হিসাব করলে জকিগঞ্জের গ্যাসের মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগ ও সাগরে অনুসন্ধান-উত্তোলনে জোর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। অথচ এমন সময়ে জকিগঞ্জের মতো আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাচ্ছে না। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জকিগঞ্জের গ্যাস দিয়ে দেশের সামগ্রিক সংকটের বড় অংশ মেটানো সম্ভব না হলেও বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতিতে এর অবদানও উপেক্ষা করার মতো নয়।

advertisement

পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রয়োজন। গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কারের পর পরই এ পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে সেখানে একটি মাত্র উৎপাদনক্ষম কূপ থাকায় প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। বিশেষ করে ওই কূপ থেকে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব, তা দিয়ে সঞ্চালন চার্জ উঠে আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান ছিল গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। একপর্যায়ে বিতরণ কোম্পানি জালালাবাদ গ্যাসের মাধ্যমে পাইপলাইনটি নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছিল পেট্রোবাংলা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগও আর এগোয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ২০২২ সালের দিকে জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ১৩৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল। তবে সম্ভাব্য ব্যয় ও ক্ষেত্রটি থেকে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি আর এগিয়ে নেয়নি জিটিসিএল। বর্তমানে একই পাইপলাইন নির্মাণে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে পাইপলাইন নির্মাণকে অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক করতে জকিগঞ্জে নতুন করে আরো দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে পেট্রোবাংলা। কূপ দুটি খননের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বাপেক্স। তবে প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদন পায়নি।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, বিজয়-১২ রিগ ব্যবহার করে জকিগঞ্জ-১ কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে কূপটিকে দৈনিক ১০-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট হারে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলনের উপযোগী করা হয়েছে। কূপটির ওয়ার্কওভারের জন্য ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকল্প নেয় বাপেক্স এবং একই বছরের ডিসেম্বরে এর কার্যক্রম শেষ হয়। বাপেক্সের তথ্যমতে, জকিগঞ্জ-১ কূপে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক সঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জকিগঞ্জে একটি কূপ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। কূপটি প্রস্তুত করে রেখেছে বাপেক্স। তবে উৎপাদন আরো বাড়াতে সেখানে নতুন করে দুটি কূপ খনন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ২৮তম গ্যাস ক্ষেত্র জকিগঞ্জের গ্যাস এখনো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত না হওয়ার মূল কারণ প্রয়োজনীয় সঞ্চালন পাইপলাইন না থাকা। একটি মাত্র কূপ থেকে পাওয়া গ্যাস দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় ছিল সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় ক্ষেত্রটিতে নতুন করে আরো দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন কূপ দুটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে তখন সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের যৌক্তিকতাও বাড়বে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জকিগঞ্জে ১০-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু এখানে পাইপলাইন করা যায়নি। সেখানকার ফিল্ডে একটা মাত্র কূপ। যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ হবে তা দিয়ে সঞ্চালন কোম্পানির মার্জিন উঠবে কিনা এসব বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এখন আরো দুটি কূপ খনন করা হচ্ছে। এরপর হয়তো গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে পাইপলাইন করা যাবে।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্রে নতুন করে আরো দুটি কূপ খননের প্রস্তাব দিয়েছে বাপেক্স। সংস্থাটির ধারণা, কূপ দুটি খননের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষেত্রটির মোট গ্যাস মজুদ ৮৭ বিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত হতে পারে। কূপ দুটি খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রকল্প প্রস্তাবে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কূপ দুটি খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ