শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৮ বিকাল
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৩০০ কোটি মূলধনে আসছে আরও চার ডিজিটাল ব্যাংক

নতুন করে আরও চারটি ডিজিটাল ব্যাংককে নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিও নতুন শর্ত পূরণ করে কার্যক্রমে আসার সুযোগ পাবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

advertisement

নতুন করে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া চার ব্যাংক হলো বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ও বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। বিকাশের শেয়ারধারীরা বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা। ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের মূল উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন এবং বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেড।

নতুন শর্ত অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের শর্ত ছিল ১২৫ কোটি টাকা। নতুন মূলধন পুরোপুরি পরিশোধিত হতে হবে।

advertisement

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে একবারে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হবে না। প্রথমে ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাংকিং সেবা চালাতে হবে। এ সময়ে কার্যক্রম সফল হলে পরে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সফল না হলে চূড়ান্ত লাইসেন্স নাও মিলতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুনে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় নগদ ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই) দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর বিদেশে কোম্পানি খুলে এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কড়ির নামে চূড়ান্ত লাইসেন্সও ইস্যু করা হয়নি।

advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের মালিকানায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত পাঁচটি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত ফিনক্লুশন ভেঞ্চারস পিটিই লিমিটেড এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ব্লু হেভেন ভেঞ্চারস, অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনারস, জেন ফিনটেক ও ট্রুপে টেকনোলজিস রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট বিনিয়োগকারী পাঁচ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও ঠিকানা, মালিকানা কাঠামো, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বর্তমান মালিকানা ও নাগরিকত্ব, গত তিন বছরের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ও নিট সম্পদসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়। তবে এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক পায়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ব্যাংকটির মূল উদ্যোক্তা প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান টেকনোহেভেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ নেয়ামুল করিম। যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত চারটি কোম্পানির বিষয়ে তথ্য না পাওয়ায় এতদিন প্রতিষ্ঠানটি চূড়ান্ত লাইসেন্স পায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের নামে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাইসেন্স দিয়েছে। কড়ির নামে ইস্যু করা এলওআইও বাতিল করা হয়নি। এখন দুটি প্রতিষ্ঠানই নতুন শর্তে রাজি হলে লাইসেন্স পেতে পারে। তবে বিতর্কিত বা পলাতক উদ্যোক্তারা থাকতে পারবেন না এবং নতুন পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণ করতে হবে।

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। ওই বছরের ২০ জুন আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে নগদ ও কড়িকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

  • সর্বশেষ