শিরোনাম
◈ মোবাইল না দেওয়ায় বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, ভিডিও ভাইরাল ◈ ভারতীয় রুপির বিপরীতে কেন শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশি টাকা? ◈ গুয়াংজো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সাও পাওলোতে নতুন কনস্যুলেট খুলছে বাংলাদেশ ◈ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান ◈ এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে ৯৯.৮% বাংলাদেশি পণ্য থাকবে শুল্কমুক্ত ◈ দুবলারচরে শতকোটি টাকার শুঁটকি বাণিজ্য, ন্যায্য দাম নিয়ে জেলেদের যত অভিযোগ ◈ সাড়ে পাঁচ বছরে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা ◈ অনূর্ধ্ব-১৮ মেয়েদের রাগবিতে নতুন দিগন্ত, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা-রাগবি ফেডারেশনের চুক্তি ◈ ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহনমালিকদের ◈ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৩ রাত
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে রিটেইল ব্যবসা গুটিয়ে পোর্টফোলিও বিক্রির পথে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নিজেদের রিটেইল ব্যাংকিং পোর্টফোলিও বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ঊর্ধ্বতন ব্যাংকাররা জানান, বেশ কয়েকটি স্থানীয় ব্যাংক এই ব্যবসা কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বাজারে রিটেইল ব্যাংকিং সীমিত করে বেশি মুনাফার করপোরেট, প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্পদশালী সম্পদ ব্যবস্থাপনা গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

advertisement

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে ব্যাংকটি। ওই বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সেখানে ব্যাংকটি মৌখিকভাবে তাদের এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

ব্যাংকটি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে তারা। এ প্রক্রিয়ায় বহিরাগত পরামর্শকের মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়টি যুক্ত থাকার কথা রয়েছে।

advertisement

একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, 'তারা এটি বাজারে প্রস্তাব করছে। এটি বিডিং (দরপত্র) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে।'

তবে প্রস্তাবিত এই লেনদেনের বিস্তারিত কাঠামো, সময়সীমা ও পরিধি এখনও সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

advertisement

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ইঙ্গিত দিয়েছে, এই প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে শুরু হতে পারে। তবে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে এখনও নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।

ওই ব্যাংকার জানান, তার ব্যাংক ইতিমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তাদের পরিচালনা পর্ষদের মৌখিক অনুমোদনও পেয়েছে।

ব্যবসাটি অধিগ্রহণে আগ্রহী আরও কয়েকটি ব্যাংকও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই প্যাকেজ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রিটেইল ব্যাংকিং হলো দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ব্যাংকিং সেবাকে—অর্থাৎ যেসব সেবা ব্যাংকগুলো বড় বড় করপোরেটের বদলে সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা শাখা, এটিএম, মোবাইল অ্যাপ সেবা, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব ইত্যাদি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে তাদের রিটেইল এবং কটেজ, মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (সিএমএসএমই) পোর্টফোলিওর আকার ছিল ৮ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা—যা তাদের ৩০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার মোট পোর্টফোলিওর প্রায় ২৮ শতাংশ।

ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর প্রায় ২০ শতাংশ বা ৮ হাজার কোটি টাকা ছিল রিটেইল আমানত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, 'বাংলাদেশে কাজ করা যেকোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি ব্যাংক তাদের নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করবে। যদি তারা রিটেইল ব্যাংকিং থেকে মনোযোগ সরিয়ে কেবল করপোরেট গ্রাহকদের দিকে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক কৌশল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু বলার নেই।'

'তবে কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে। ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট অংশ এসব খাতে বরাদ্দ করতে হয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোকেও এসব নিয়ম পরিপালন করতে হবে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ছাড় দেবে না,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে টিবিএস হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

পোর্টফোলিও বিক্রি: বাংলাদেশে প্রথম অভিজ্ঞতা

প্রস্তাবিত এই লেনদেনটি পুরো একটি ব্যাংক বিক্রি বা একীভূতকরণের চেয়ে আলাদা হবে।

একজন ব্যাংকার জানান, বাংলাদেশে এর আগে ব্যাংক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটলেও, কোনো বিদেশি ব্যাংক আলাদাভাবে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের পোর্টফোলিও বিক্রি করে দিয়েছে—এমন কোনো নজির তার জানা নেই।

এই লেনদেনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতাভুক্ত গ্রাহক, কর্মী ও শাখাগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে; যদিও এর সঠিক কাঠামো এখনও পরিষ্কার নয়।

ওই ব্যাংকার বলেন, 'যদি রিটেইল ব্যবসা অন্য কোনো ব্যাংকের কাছে চলে যায়, তবে সেই ব্যবসার সাথে যুক্ত কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।'

এ কারণে সম্ভাব্য ক্রেতারা কেবল পোর্টফোলিওটির আর্থিক মূল্যই যাচাই করবে না, বরং রিটেইল ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত গ্রাহক ভিত্তি, আমানত, ঋণের সম্পর্ক ও অবকাঠামোও মূল্যায়ন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই এইচএসবিসি ঘোষণা দেয়, তারা ৬ থেকে ৮ মাস মেয়াদি পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।

উচ্চ-মূল্যের গ্রাহক ভিত্তির কারণে বাড়ছে আগ্রহ

ওই ব্যাংকার বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসার মূল আকর্ষণ হলো তাদের গ্রাহক প্রোফাইল।

তিনি জানান, ব্যাংকটিতে সম্পদশালী ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গ্রাহকদের আনুপাতিক হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এই গ্রাহকরা অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের গড় ব্যালেন্স বজায় রাখেন।

'স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গ্রাহক ভিত্তি অনেক উচ্চ-মূল্যের,' উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ-মূল্যের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের মুনাফা মূলত গ্রাহকদের গড় আমানতের ব্যালেন্স এবং তাদের নেওয়া বহুমুখী সেবার ওপর নির্ভর করে।

এছাড়া ব্যাংকটির একটি উল্লেখযোগ্য 'এমপ্লয়ি-ব্যাংকিং' ব্যবসাও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের বেতন ও অন্যান্য ব্যাংকিংয়ে প্রয়োজনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে লেনদেন করেন।

ওই ব্যাংকার বলেন, যেসব প্রতিযোগী ব্যাংক তাদের উচ্চ-মূল্যের রিটেইল গ্রাহক ভিত্তি ও আমানত বাড়াতে চায়, তাদের কাছে এ ধরনের গ্রাহক এই পোর্টফোলিওকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

তবে পোর্টফোলিও স্থানান্তর মানেই যে সব গ্রাহক অধিগ্রহণকারী ব্যাংকের সঙ্গেই থাকবেন, বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

ওই ব্যাংকার জোর দিয়ে বলেন, গ্রাহকেরা শেষ পর্যন্ত কোন ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রাখবেন, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের থাকবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে পোর্টফোলিও হস্তান্তর করা হলেও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বর্তমান কোনো গ্রাহক চাইলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বেশ কয়েকটি ব্যাংকের আগ্রহ

ওই ব্যাংকার জানান, বেশ কয়েকটি ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও দরদাতাদের চূড়ান্ত তালিকা এখনও স্পষ্ট নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের মতো ব্যাংকগুলো থাকতে পারে। পরে অন্য আরেকজন ব্যাংকারও ব্যাংকগুলোর আগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার প্রতিষ্ঠানও এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে আলোচনার সূত্রমতে, দরপত্রের বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।

আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলে পোর্টফোলিওটির মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে—এমন পরামর্শক চিহ্নিত করে প্রস্তুত থাকার জন্য সম্ভাব্য ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওই ব্যাংকার বলেন, 'তারা আমাদের একটি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বলছে। এর সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য একজন পরামর্শক প্রয়োজন।'

তিনি আরও জানান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কাছ থেকে লেনদেনের বিভিন্ন ধাপের সময়সূচিসহ একটি বিস্তারিত ক্যালেন্ডার পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সম্ভাব্য ক্রেতারা।

বিশ্বজুড়েই রিটেইল ব্যবসা গোটাচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

ওই ব্যাংকার বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো সরাসরি বার্তা হিসেবে না দেখে মূলত গ্রুপটির বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কৌশলের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা উচিত।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিদেশি বাজারে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে বা কমিয়ে আনছে। সেইসঙ্গে তারা করপোরেট ব্যাংকিং ধরে রেখে সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

তিনি জানান, ব্যাংকটির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মূলধনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও বিদেশি বাজারে রিটেইল ব্যাংকিং পরিচালনার চড়া খরচ। বিশেষত কমপ্লায়েন্স ও অর্থ পাচার লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার কারণে এই ব্যয় অনেক বেড়েছে।

ওই ব্যাংকার বলেন, 'বাইরের দেশে রিটেইল ব্যাংকিং পরিচালনার অর্থনৈতিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে।'

তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি বাজার থেকে রিটেইল কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে বা সীমিত করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। ভারতেও তারা রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে সরে আসছে।

তাদের কৌশল হলো—বেশি মুনাফার ব্যবসা ও বাজারে মূলধন রাখা; সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু বাজারে করপোরেট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা।

ভারতে নিজেদের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম ছোট করে এনেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। দেশটির পোর্টফোলিওর একটি অংশ তারা বিক্রি করে দিয়েছে; ভারতে গ্রাহকদের কেবল ক্রেডিট কার্ড রয়েছে, কিন্তু ব্যাংকের সাথে তাদের বিস্তৃত কোনো লেনদেন নেই।

কেরালাভিত্তিক ফেডারেল ব্যাংকের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ফেডারেল ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তির আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে গ্রাহকদের সম্মতি ও হস্তান্তরের সময় তাদের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সের ওপর। 

বাংলাদেশের নিজস্ব ঝুঁকিও একটি নিয়ামক

রিটেইল কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ওই ব্যাংকার বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা হিসেবে না দেখলেও তিনি বলেন, মূলধন বরাদ্দের সময় আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো যেসব বিষয় বিবেচনা করে, তার মধ্যে কান্ট্রি রিস্ক (দেশভিত্তিক ঝুঁকি) অন্যতম।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিভিন্ন স্থানীয় কারণে এশিয়ার কিছু বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের ঝুঁকি প্রিমিয়াম কিছুটা বেশি হতে পারে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ক্ষেত্রে বিদেশি বাজারে রিটেইল ব্যাংকিং পরিচালনার সার্বিক অর্থনৈতিক দিকটিই সম্ভবত মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে কাজ করেছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গড়ে তোলা রিটেইল গ্রাহক ভিত্তির জন্য প্রতিযোগী ব্যাংকগুলো কত মূল্য দিতে প্রস্তুত এবং হস্তান্তরের পর তারা সেই গ্রাহকদের ধরে রাখতে পারবে কি না—প্রস্তাবিত এই বিক্রির মাধ্যমে এখন সেটিই যাচাই হবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্যও এই লেনদেন বিরল দৃষ্টান্ত হতে পারে। কারণ এখানে পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রম বিক্রি বা একীভূত না করে একটি বিদেশি ব্যাংক আলাদাভাবে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং ফ্র্যাঞ্চাইজি হস্তান্তর করতে যাচ্ছে।

রিটেইল ব্যাংকিং সেবায় ভোগান্তিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গ্রাহকেরা

ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করার কথা বলে ইতিমধ্যে শাখা ও এটিএম বুথের সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।

ব্যাংকটির তথ্যমতে, দেশজুড়ে বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ১৮টি শাখা ও ৭০টি সেলফ-সার্ভিস টার্মিনাল (এটিএম ও ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন) রয়েছে। পাঁচ বছর আগে সারা দেশে ব্যাংকটির প্রায় ২৪টি শাখা ও প্রায় ৮৩ থেকে ৯৬টি এটিএম বুথ চালু ছিল।

কয়েক বছর আগে ব্যাংকটি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জমা রাখার বাধ্যবাধকতা চালু করে। এছাড়া সম্প্রতি তারা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সুবিধাও বন্ধ করে দিয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে মাসে অন্তত দুইবার মোবাইল অ্যাপ সেবা বন্ধ রাখায় গ্রাহকরা প্রায়ই ডিজিটাল লেনদেনে বিঘ্ন ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

এটিএম বুথের স্বল্পতা, ঘন ঘন অ্যাপ বন্ধ থাকা ও কার্ডে সীমিত অফার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের তীব্র অসন্তোষ দেখতে পেয়েছে টিবিএস।

উদাহরণস্বরূপ, একটি বহুজাতিক কোম্পানির গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার শাহ মো. জুনায়েদ তার লিঙ্কডইন প্রোফাইলে লিখেছেন, 'ব্যাংকিং সেবার দিক থেকে বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সেবাই সম্ভবত সবচেয়ে বাজে। মানহীন অ্যাপ, এটিএম বুথ নেই বললেই চলে (জরুরি মুহূর্তে গ্রাহকদের জন্য অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের সুবিধাও দিতে পারে না), কার্ডে অফার সীমিত, এমনকি এমএফএসে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাও এরা করতে পারেনি।'

তার সেই পোস্টে রাফায়াত রহমান নামের একজন ব্যাংকার মন্তব্য করেন, 'একই সমস্যায় পড়েছি। অফিস এটিএম থেকে টাকা তুলতে আমাকে মোহাম্মদপুর থেকে আকিজ হাউস পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। প্রতি শুক্রবার একটা এসএমএস পাই যে শনিবারে এনপিএস সেবা বন্ধ থাকবে। তাদের বিটুবি সেবা মাঝে মাঝে ধীরগতির হলেও অন্তত নির্ভরযোগ্য। তবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আপনারা রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছেন। যদি চলে যাওয়ার পরিকল্পনাই থাকে, তাহলে অন্তত কিছুটা সম্মান ধরে রেখে বিদায় নিন।'

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ