বাজারে মিল্কভিটা ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে খুচরা দোকানে মিল্কভিটার প্রতি লিটার দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত ৫ আগস্ট থেকে বাড়তি এ দাম কার্যকর হয়েছে।
মিল্কভিটার দুধ উৎপাদন করে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের দাম ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে দুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ১ আগস্ট থেকে বাড়ানো হয়েছে খামারি পর্যায়ে দুধ সংগ্রহের মূল্যও।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মিল্কভিটার নতুন দামের দুধের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে। তাতে ৫০০ মিলিলিটারের (আধা লিটার) স্ট্যান্ডার্ড দুধ (লো ফ্যাট) ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৫ টাকা। আর আধা লিটার টোন্ড মিল্ক বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, যা আগে ৫০ টাকা ছিল।
তবে, প্রাণ ও ফার্মফ্রেশ (আকিজ ডেইরি)-এর মতো অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। আধা লিটারের প্রাণ, আড়ং ও ফার্মফ্রেশ দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
পাস্তুরিত তরল দুধের পাশাপাশি টোল্ড মিল্ক, ফ্লেভার্ড মিল্ক, ঘি, মাখন, ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ননিবিহীন গুঁড়া দুধ, মিষ্টি দই, টক দই, রসগোল্লা, সন্দেশ, চিজ, কেকসহ ২৫ ধরনের পণ্য বাজারজাত করে মিল্কভিটা। প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্যাকেজিং সামগ্রী, গোখাদ্যসহ সহায়ক সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসেবে বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় তাদের ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা খরচ বেড়েছে। দুগ্ধ খামারিরাও বারবার তাদের উৎপাদিত দুধের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। সব মিলিয়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুধের পাশাপাশি মিল্কভিটার অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।
মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল বলেন, আমরা হিসাব করে দেখেছি যে প্রতি লিটার দুধের উৎপাদন ব্যয় ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা বেড়েছে। আমরা সেই খরচ হিসাব করে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক কিংবা অন্তত সমান সমান রাখার স্বার্থে আমরা দুধের দাম বাড়িয়েছি।
তিনি জানান, মিল্কভিটার কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ বিল একলাফে ৫৫–৫৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭২–৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। গ্যাস–সংকটের কারণে কারখানাতে এখন এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ কারণে ব্যয় বেড়েছে। এর আগে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় খামারি ও বিপণন পর্যায়ে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।
উৎপাদন খরচের পাশাপাশি প্রাথমিক খামারিদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মিল্কভিটার চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গোখাদ্য ও পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলো খামারিদের থেকে তুলনামূলক বেশি দাম দিয়ে দুধ কিনে নিচ্ছে। ফলে মিল্কভিটার দুধ সংগ্রহ কমে যাচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা ১ আগস্ট থেকে খামারি পর্যায়ে লিটারপ্রতি দুধের দাম তিন টাকা বাড়িয়েছে।