বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (GMT) সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৪২.২৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৪২.৮০ ডলারে লেনদেন হয়।
স্টোনএক্সের (StoneX) মার্কেট অ্যানালাইসিস বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, জুনের শেষ দিক থেকে প্রতি আউন্স ৪,০০০ ডলারের আশপাশে শক্ত সমর্থনের কারণে স্বর্ণের দাম খুব সীমিত পরিসরে ওঠানামা করছে। তাঁর মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার পর যেকোনো সময় দামে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ‘ব্রেকআউট’ দেখা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভৌত স্বর্ণের বাজার এখনো তুলনামূলকভাবে শান্ত। তবে তেলের দাম, সুদের হার এবং মার্কিন ডলারের পারস্পরিক প্রভাব বিশ্লেষণে ব্যস্ত রয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা, কারণ এই তিনটি উপাদানই স্বর্ণের দামের প্রধান চালিকাশক্তি।
এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন ডলার এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি থাকায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
ভূরাজনৈতিক অঙ্গনেও নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং বিরোধ নিরসনের একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করে, যা ফেডকে সুদের হার বাড়ানোর দিকে উৎসাহিত করতে পারে। যদিও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে দেখা হয়, তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ফেডকে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সবচেয়ে কম হওয়া উচিত।
বাজার এখন ফেডের দুই দিনের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের প্রায় ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন। এছাড়া সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৯ শতাংশ ধরে মূল্যায়ন করছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭.৫৬ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৬০৭.৭৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৫ শতাংশ কমে ১,২৭২.৭১ ডলারে নেমে আসে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
এদিকে দেশের বাজারেও আজ কমেছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট ১ ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স