শিরোনাম
◈ ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ জন ◈ এলন মাস্কের টেসলাকে চ্যালেঞ্জ, রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফের উড়ন্ত গাড়ি! ◈ অনুমতি ছাড়াই অন্যের ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম খরচ করল ওপেনএআইয়ের গবেষণা মডেল ◈ নারী শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্ব, রিবা আন্তর্জাতিক স্থাপত্য পুরস্কারে বিশ্বের সেরা নতুন ভবন রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি ◈ ইনানী রিসোর্টে আগুন: ফজরের পর সৈকতে গিয়ে বাঁচলেন দুই বান্ধবী, প্রাণ গেল মুক্তার ◈ আ‌লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ম‌্যান‌চেস্টার সিটির জয় ◈ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর ◈ কুমিল্লায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা খুন : পুলিশ সুপার ◈ দেশ গঠনে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৭, ১৩ নারী ও ১ শিশু

প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৫ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ সংকটে তেলের দামে আগুন, বাড়ছে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা

 ইরান ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের উত্তাপ এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনতে প্রায় ১৫০ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ। বর্তমানে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কেবল ফিউচার মার্কেট নয়, বরং সরাসরি কেনাবেচার ক্ষেত্রে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে সর্বোচ্চ ১৪৭.৫০ ডলারে উঠেছিল। কিন্তু চলমান সংকটে সেই রেকর্ডও ম্লান হয়ে গেছে। যদিও গত মাসে ব্রেন্ট অয়েল ফিউচারের দর ছিল ১১৯.৫০ ডলার, কিন্তু তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে (স্পট মার্কেট) বিভিন্ন উন্নত জাতের তেলের দাম এরই মধ্যে অতীতের সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার ও ইউরোপের বড় বড় শোধনাগারগুলো এখন বিকল্প হিসেবে আফ্রিকা ও ইউরোপের তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই বাড়তি চাহিদার চাপে আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দামও রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তেল পাওয়ার এই তীব্র প্রতিযোগিতা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক। যুদ্ধের স্থায়িত্ব বাড়লে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ