শিরোনাম
◈ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন: চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, সরগরম এফডিসি ◈ সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দেশে বছরে নতুন ক্যান্সার রোগী প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার, ৪৮৫টি এক্স-রে ও ৩৯৫টি আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো ◈ ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত 'জরুরি প্রয়োজনে' কংগ্রেসের কাছে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প  ◈ রাতের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ◈ ‘না গিলতে পারছি, না ফেলতে পারছি’ : অর্থমন্ত্রী ◈ তারেক রহমানের চীন সফরে বড় অগ্রগতি, সই হলো ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক ◈ ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ, ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর ◈ চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুরু, ১৫ সমঝোতা স্মারকে সই করবে বাংলাদেশ ◈ চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালুচেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৪ কোটি লিটার তেল ও ২২ হাজার ৫০০ টন ডাল কিনবে সরকার

প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৫ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ সংকটে তেলের দামে আগুন, বাড়ছে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা

 ইরান ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের উত্তাপ এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনতে প্রায় ১৫০ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ। বর্তমানে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কেবল ফিউচার মার্কেট নয়, বরং সরাসরি কেনাবেচার ক্ষেত্রে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে সর্বোচ্চ ১৪৭.৫০ ডলারে উঠেছিল। কিন্তু চলমান সংকটে সেই রেকর্ডও ম্লান হয়ে গেছে। যদিও গত মাসে ব্রেন্ট অয়েল ফিউচারের দর ছিল ১১৯.৫০ ডলার, কিন্তু তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে (স্পট মার্কেট) বিভিন্ন উন্নত জাতের তেলের দাম এরই মধ্যে অতীতের সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার ও ইউরোপের বড় বড় শোধনাগারগুলো এখন বিকল্প হিসেবে আফ্রিকা ও ইউরোপের তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই বাড়তি চাহিদার চাপে আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দামও রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তেল পাওয়ার এই তীব্র প্রতিযোগিতা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক। যুদ্ধের স্থায়িত্ব বাড়লে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়