শিরোনাম
◈ আর্জেন্টিনার বিরু‌দ্ধে ম‌্যাচ ভীষণ কঠিন হবে: অষ্ট্রিয়া কোচ ◈ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক পুলিশ, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কড়া নজরদারি ◈ বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই: শিক্ষামন্ত্রী ◈ সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তকমা নিয়ে যা বললেন ◈ মাসে কত টাকা পাবেন জুলাইযোদ্ধার, জানালেন মন্ত্রী ◈ বিদেশি ঋণ নয়, নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোচ্ছে সরকার ◈ ‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা বলার যে ব্যাখ্যা দিলেন আলোচিত সেই এমপি জেবা আমিন (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধটি আসলে কেন হয়েছিল? ◈ বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের হাঙর সাব‌মে‌রিন, বাংলাদেশকে নি‌য়েও জল্পনা তু‌ঙ্গে, ভারতের জন্য কতটা চিন্তার? ◈ যুক্তরা‌স্ট্রের স‌ঙ্গে আলোচনার মানে এটা নয় যে, শত্রুর মতামত মেনে নেয়া হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৫ দুপুর
আপডেট : ১৮ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শূন্য রিটার্নের আড়ালে ভ্যাট ফাঁকি, গোয়েন্দা জালে ৯৫৩ প্রতিষ্ঠান

কর ছাড়ের বড় সুবিধা পাওয়ার পরও বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল উন্মোচন করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি করেও তা গোপন রেখে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করেছে এমন ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুইলচেয়ার, কমোড চেয়ার ও পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে আমদানি পর্যায়ে কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয় না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও তা বছরের পর বছর ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের ক্রয়-বিক্রয় তথ্য যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির এই বিশাল চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জনবল সংকট ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, রাজস্ব আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের ১২টি কমিশনারেট অফিসকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাকির হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

আমদানিতে শুল্কছাড়ের বিশাল সুবিধা পাওয়ার পরও পণ্য বিক্রির তথ্য গোপন করে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করছে আমদানিকারকরা। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের এমন অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়েছে। হুইলচেয়ার ও কমোড চেয়ারের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রিতে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর তা এড়িয়ে গেছে

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত ২১টি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তদন্ত ও ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ১২টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যা বলছে

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত হুইলচেয়ার, হাঁটার লাঠি বা ছড়ি এবং পোর্টেবল কমোড চেয়ারের মতো পণ্যগুলো প্রায় শতভাগ আমদানি-নির্ভর। এসব পণ্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশে আসে এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই খাতে মোট ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদের আমদানি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু-একটি বাদে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করে আসছে। যদিও এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সব ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি পান, তবে নিয়মানুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ভ্যাট দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় পর্যায়ের প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ না করে নিয়মিত শূন্য রিটার্ন জমা দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ২১টি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা।

চিহ্নিত ২১ আমদানিকারক এবং ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের চিত্র

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ২০২০-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ‘শূন্য রিটার্ন’ দাখিল করে মোট ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ২১টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের মতে, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ট্রেড ভিশন ও ইউনিমিড লিমিটেডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কড়া নজরদারিতে এখন বেরিয়ে আসছে বড় বড় রাঘববোয়ালদের নাম

শীর্ষ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ট্রেড ভিশন লিমিটেড, ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা; ইউনিমিড লিমিটেড, ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৮ টাকা; তাজ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড, ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮২২ টাকা; এসএস এন্টারপ্রাইজ, ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৪২ টাকা; মেডিকিট ইন্টারন্যাশনাল, ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৩০৯ টাকা; রুশদা এন্টারপ্রাইজ, ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪১ টাকা; ইউনাইটেড সার্জিক্যাল লিমিটেড, ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৭ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির পরিমাণ

তালিকায় থাকা আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপরা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০২ টাকা; ইউরো মিলেনিয়াম ট্রেডিং, ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা; দেশ মিডিকা, ৯১ লাখ ১১ হাজার ৬৪৯ টাকা; ইয়ামিন টেক ইন্টারন্যাশনাল, ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৩ টাকা; মেহেদী সার্জিক্যাল স্টোর, ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৬১ টাকা; সুপার হেলথ কেয়ার, ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭ টাকা; স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সিস্টেম, ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং ম্যাক্সটন এলাইন্স, ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৫০১ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

এছাড়া মেসার্স ট্রেড ফেয়ার, ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯০২ টাকা; সাজ্জাদ ইনট্রাস্ট ট্রেড ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫ টাকা; নুসাইবা ট্রেডিং, ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৭ টাকা; বায়োটেক সার্ভিসেস, ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৭ টাকা; মেডিকম, ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০১ টাকা; মন্ডল সার্জিক্যাল অ্যান্ড ট্রেডিং, ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫৯ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বা পরিশোধ করেনি।

অবশিষ্ট ৯৩২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জনবল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট অফিসকে দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের তদন্ত ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বড় ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিআইএন স্থগিত বা বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও জেল-জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনবিআর

কমিশনারেট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের তালিকা— ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট : ৪২০টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট : ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট : ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট : ৪৭টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেট : ৪১টি প্রতিষ্ঠান, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪টি প্রতিষ্ঠান, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট : ১২টি প্রতিষ্ঠান, কুমিল্লা ও রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট : প্রতিটি ৯টি করে প্রতিষ্ঠান, সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট : ৭টি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিট : ৩টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ কী?

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ বা ‘নিল রিটার্ন’ বলতে এমন একটি ভ্যাট বিবরণীকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাসে তাদের পরিশোধযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ ‘শূন্য’ দেখায়। অর্থাৎ, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা থেকে সরকারের কাছে কোনো ভ্যাট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি— এমন তথ্য দিয়েই এই রিটার্ন দাখিল করা হয়।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যদি কোনো মাসে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি না হয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে অথবা প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্য হারের পণ্য নিয়ে কাজ করে, তবেই তারা শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে পারে। এক্ষেত্রে ভ্যাট জমা দেওয়ার দায় না থাকলেও প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া প্রতিটি বিআইএনধারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে শূন্য রিটার্ন জমা দেয়। এটি মূলত ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার একটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভ্যাট গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয় : জাকির হোসেন, মহাপরিচালক, ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর

ভ্যাট ফাঁকিতে শাস্তি কী?

ভ্যাট ফাঁকি দিলে মূলত ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ‘কাস্টমস আইন, ১৯৬৯’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ ভ্যাট গোপন বা ফাঁকি দিয়েছে, তা আদায়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ ফাঁকি দেওয়া করের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। এছাড়া ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ভিত্তিতে সুদ বা সারচার্জ আরোপের বিধানও রয়েছে।

গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন (বিআইএন) স্থগিত বা বাতিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও হিসাবপত্র জব্দ করতে পারে। এমনকি সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড— উভয় ধরনের শাস্তির আদেশ দিতে পারেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়